004637
Total Users : 4637
Charbak magazine logo
sorolrekha logo

লেখক তালিকা

জন্ম. ২৩ নভেম্বর ১৯৭৫, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার পাত্রখোলা চা বাগানে। সম্পাদনা করছেন ‘চারবাক’ ও ‘সরলরেখা’। যুক্ত আছেন সাপ্তাহিক সাহিত্য আড্ডা ‘শুক্কুরবারের আড্ডা’র সাথে। লিটল ম্যাগাজিন সংগ্রহ ও প্রদর্শন কেন্দ্রের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রকাশিত গ্রন্থ: মায়াহরিণ, কাব্যগ্রন্থ ২০০৮, চারবাক, বুদ্ধিজীবীর দায়ভার, সম্পাদনা ২০০৯, সংবেদ, পক্ষ—প্রতিপক্ষ অথবা শত্রু—মিত্র, প্রবন্ধ ২০১০, চারবাক, নির্বাচিত চারবাক, সম্পাদনা ২০১১, চারবাক, নাচঘর, কবিতা, ২০১২, চারবাক, ভাষা সাম্প্রদায়িকতা অথবা সাম্রাজ্যবাদি খপ্পর, প্রবন্ধ, ২০১৩, চারবাক এবং মুখোশ, কবিতা, ২০১৬, চারবাক, করোনাকালে, কবিতা, ২০২২, চারবাক।
View Posts →
কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক
View Posts →
প্রাবন্ধিক ও চিন্তাবিদ
View Posts →
বাংলাদেশের উত্তরউপনিবেশি ভাবচর্চার পথিকৃৎ ফয়েজ আলম একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, অনুবাদক। উপনিবেশি শাসন-শোষণ আর তার পরিণাম, রাষ্ট্র ও সমধর্মী মেল কর্তৃক ব্যক্তির উপর শোষণ-নিপীড়ন ও ক্ষমতার নানামুখি প্রকাশ আর এসবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে টিকে থাকার কৌশল নিয়ে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে লিখছেন তিনি। বিশ্বায়নের নামে পশ্চিমের নয়াউপনিবেশি আর্থ-সাংস্কৃতিক আগ্রাসন আর রাষ্ট্র ও স্বার্থকেন্দ্রিক গোষ্ঠীর শোষণচক্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তার লেখা আমাদের উদ্দীপ্ত আর সাহসী করে তোলে। রুহানিয়াত সমৃদ্ধ দার্শনিক ভাবচর্চা আর সাহিত্যিক-রাজনৈতিক তত্ত্বচর্চাকে একসাথে কবিতার দেহে ধারণ করতে সক্ষম ফয়েজ আলমের সহজিয়া কবিতা। তার কবিতায় তিনি মানুষের প্রাত্যহিক মুখের ভাষার প্রতি উন্মুক্ত। যে ভাষাকে আমরা ব্রাত্য বানিয়ে রেখেছি একেই তিনি জায়গা করে দিয়েছেন কবিতায়। তাই প্রচলিত কাব্যভাষা থেকে তার কবিতার ভাষা ভিন্ন। বিভিন্ন প্রবন্ধে তিনি এ ভাষাকেই বলেছেন মান কথ্যবাংলা, আঞ্চলিকতার বাইরে সর্বাঞ্চলীয় বাঙালির প্রতিদিনের মুখের ভাষা। কবিতাগুলো কখনো কখনো বিভিন্ন ধ্বনি ও শব্দে বেশি বা কম জোর দিয়ে কথা বলার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করতে পারে, যেভাবে আমরা হয়তো আড্ডার সময় কথা বলি। এবং তা একই সাথে বক্তব্যের অতিরিক্ত ভাষারও অভিজ্ঞতা। খোদ ‘আওয়াজের সাথে ইশক’ যেন। প্রাণের আকুতি ও চঞ্চলতার সাথে তাই শূন্যতাও হাজির আছে। সেই সাথে জারি আছে ‘শব্দের দিলের ভিতরে আরো শব্দের আশা’। ফয়েজ আলমের জন্ম ১৯৬৮ সালে, নেত্রকোনা জেলার আটপাড়ার যোগীরনগুয়া গ্রামে। বাবা মরহুম শেখ আবদুস সামাদ, মা সামসুন্নাহার খানম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে বিএ (সম্মান) ও এমএ পাশ করার পর প্রাচীন বাঙালি সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ক গবেষণার জন্য এমফিল. ডিগ্রী লাভ করেন। গুরুত্বপূর্ণ কাজ: ব্যক্তির মৃত্যু ও খাপ-খাওয়া মানুষ (কবিতা, ১৯৯৯); প্রাচীন বাঙালি সমাজ ও সংস্কৃতি ( গবেষণা, ২০০৪); এডওয়ার্ড সাইদের অরিয়েন্টালিজম (অনুবাদ, ২০০৫); উত্তর-উপনিবেশি মন (প্রবন্ধ, ২০০৬); কাভারিং ইসলাম (অনুবাদ, ২০০৬), ভাষা, ক্ষমতা ও আমাদের লড়াই প্রসঙ্গে (প্রবন্ধ, ২০০৮); বুদ্ধিজীবী, তার দায় ও বাঙালির বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব (প্রবন্ধ, ২০১২), জলছাপে লেখা (কবিতা, ২০২১), রাইতের আগে একটা গান (কবিতা, ২০২২); ভাষার উপনিবেশ: বাংলা ভাষার রূপান্তরের ইতিহাস (প্রবন্ধ, ২০২২)।
View Posts →
কবি ও গল্পকার। যুক্ত আছেন চারবাক সম্পাদনা পরিবারের সাথে।
View Posts →
কবি। জন্ম মৌলভীবাজার জেলায়।
View Posts →
প্রাবন্ধিক। অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক। বর্তমানে প্রান্তীয় কৃষক-মধুচাষি, বেতবাঁশ শিল্পের সাথে জড়িত লোকজন নিয়ে কাজ করছেন।
View Posts →
জন্ম— জুন, ০৬, ১৯৭৭। জন্মস্থান— উত্তর গোবীন্দর খীল, হাঁদু চৌধুরী বাড়ী, পটিয়া, চট্টগ্রাম। (শৈশব কৈশোর ও তারুণ্যের সময়যাপন) বেড়ে ওঠা (পূর্ব্ব বালিয়াদী, মীরশ্বরাই, চট্টগ্রাম) নানার বাড়ীতে। প্রকাশিত কবিতার বই— ফুলেরা পোষাক পরে না (সাল: ২০১৮, প্রকাশক : মনফকিরা, কলিকেতা)। প্রকাশিতব্য বই— অর্দ্ধনারীশ্বরবাদ : প্রকৃতিপুরুষতত্ত্ব (নন্দনতত্ত্ব), বটতলার বয়ান (ভাষাতাত্ত্বিক গদ্য) ও উদ্ভিদপ্রতিভা (কবিতা)। সম্পাদক— চারবাক।
View Posts →

সম্পূর্ণ লেখক তালিকা

আসমা সুলতানা শাপলা’র কবিতা

হরফেরা উইড়া যায়

তোমার কোনো খবর নাই
উইড়া গেছ হাওয়ায়? বাতাসে? আকাশের দেশে?
এইখানে রাইত আন্ধার
কড়াগুলা নইড়া উঠে স্বপনের দেশে
হাওয়া নাই নীল নাই আন্ধাইর সকল
ছবির পিছনে ছবি গাঙের পিছনে গাঙ্
আঁকে বৈশাখী নাকছাবি।

তোমার কোনো চিঠি নাই
হরফগুলা উইড়া যায় বিবাগের পাখি
তবু আমি খাম খুইলা দিনরাইত আঁকি
কিছু রৈদ আর তার কিছু ছায়াছবি।

তোমার ছায়াগাছ

এইখানেই বাস কর যেইখানে দাঁড়ায়া আছ।
দূর কোনো দূর না
আমার ভিতর
বড়জোর সাড়ে তিন হাত মাটির সমান।

তোমার ছায়াটা লম্বা
আমার যত পাখি তোমার ছায়ায় বসুক
উড়াই আর যা কিছু বাকি
তোমার ছায়াগাছের ডালে ডালে, উড়ুক।

আমার মাটির উপরে তুমি গাছ
তুমি গাছের উপরে আমার পাখিগান
শেষের বেলার সুরে বাইন্ধা দিও
মুইছা যাক সমাজ সংসার।

মা

লয়্যা যাইও তোমরা যা যা লইতে চাও
রূপার বাসন পিতলের থালাগুলি
সোনার গয়না আর যা কিছু।
সাহেব বিবি আঁকা বিবাহের উপহার গেলাসগুলি
আমি ভরি মনের মদে
কুশি কাটায় বুনি উল।
লয়্যা যাইও তুমরা যা যা লইতে চাও
শাড়ি গয়না বিদেশী থালবাটি গেলাস।

একবেলায় আমি বিছরাইতাম তার
জরির ফিতা-লেস সুইয়ের সূতা সেলাইয়ের বাক্স
আংটা দেয়া নাকফুল।
এইবেলা মাটি বিছরাই
মায়ের পিছে পিছে হাঁটি
তার গায়ের গন্ধে একদিন পৌছাইয়া যাবো
তার সাড়ে তিন হাত মাটির ঘর
এইমতো সাধ।

নিরাক্রে দাড়ি দেওন যাক

এই বাদলায় তিনটা দিন কিবা সাতটা
রাইতের পহর শেষ হইছে মনে কইরা
এইখানে একটা নিরাবেলি দাড়ি দেয়া যাইতে পারে।

মানুষ নিজেরই কাছে এক অনচিনা আয়োজন
খুব চিনি মনে হয় যারে সে যে হয় না পরানের চিন
তার আছে বাড়ি আছে ঘর আছে ক্ষেত খামার
আর জমিজিরাতের ভাগীদার
যার কিছু নাই সেও ভাগ দিতে দিতে
বেইচা দিছে কোন অনজানায় নিজের আসমান
তবু, তার মনে হয় তারার মালা গাঁথি
ফুলের মধু খাই
উইড়া যাই অচিন বনে
হায়, চিনবনে তার পাঁখ কাটা পইড়া গেছে কেমনে কই?
কাটতে যদি না দিই আমি কার সাধ্য চুরি করে আমার বেবাক!

এইসব ভাবতে ভাবতে আইসা সামনে দাঁড়ায় এক নিরাকের কাল
বুকের ভিতরে নিরাক
ফরফর শব্দ তুইলা উইড়া চলে নিরাকপঙ্খি…
এইখানে মনে কয় একখান দাঁড়ি দেওন যায়।

গত জনমের দাগ

যদিও আসমানে ভরা চান ঢালে রোশনাই
তবু, ভইরা উঠে না এই রাইত
কপালে নীল হয়্যা ফুইটা থাকে
গতজনমের সব দাগ..

চিনা অনচিনার মধ্যে কার জবান

তুমি অনচিনা বুলি, রপ্ত করা রীত।
আমার মায়ের মুখে মাঠে-ঘাটে-বাটে শুনা
খেয়ালে বেখেয়ালে বাজে পদ্যের উম
হয়্যা উঠে পরানের সুরাখ
টান দেয়, গাইয়া উঠে এক দুঃখের গীত।
তুমি তো সে না
তবে এ কার জবান বাজে আমার তিরাসের ঠোঁটে!

ঘুমে আর জাগনায় যারে জানছি আপন, জন্মের পহরে
মরবো যার বাঁস গায়ে লইয়া, সেইতো, তারে পরাণ দিছি।
তুমি কি আপন হইছিলা আমার
কোনো দিন কোনোকালে?
তয় তোমারে কেন আমার পড়তে হইছিল
কতশত দিনরাইত মাস বছর জুইরা?
কেন খুলতে হইছিল আন্ধাইরের একখান বেণী!
কেন বারেবারে যাইতে আসতে হইছিল
অলিগলি আদার বাঁদার দিয়া বহু দূর পথ?
কেন তোমারে আমার রপ্ত করতে হইছিল?
তয়, তুমি কেমনে হইছিলা আমার,
কইতে কি পারো একবার?

ওই যে আসমানের চান
বুঝি কি বুঝি না বেলায় মায়ের মুখে শুনছিলাম তার নাম
নিশুতি রাইতের আসমানে পাতা আদমসুরত
তারে তো আমার কোনো দিন পড়তে হয় নাই
জানতে হয় নাই একখান কিতাব খুইলা
কালপুরুষ
একদিন ফকফকা আসমানে দেখায়া আমার বাপে
চিনায়া দিছিল এইসকল
তয় তোমারে কেন আলাদা কইরা পড়বার লাগে!
তার পরে জানা লাগে দিলের খবর?

তোমারে শুনলেই কেন চিনতে পারি না,
চিনতে পারিনা কেন তোমার আচার?
পরাণ ভিজেনা কেন তোমার পরশে আমার….

ঘর বান্ধার স্বপ্ন আমার

আমি তো নিত-নিত ঘর বান্ধি
ঘরের সামনে কিছু সবুজ ঘাস
কিছু বিলের পানি কিছু উইড়া আসা কাইম
কিবা একটা শিউলি গাছ বসাই।
দেখি এই করে আসরের ওয়াক্তে গড়ায়
ঘরের সাথে আরও কত কি বান্ধনের রীত
আমাকে নিতনিত টানতেছে বেইলের কিনারায়

সূর্য ডুবতে বসে
আমার ঘর বান্ধার কাম
আসর হইতে মাগরিব-এশায় গড়ায়।

এই পৃথিবীতে কোনো কোরআন নাই,
নাই গীতা-ত্রিপিটক-বাইবেল

তুমি দিতে আসছিলা
দিতে দিতে একদিন আমি হয়া গেছ
আমি কেবল নিছি
নিতে নিতে কবে য্যান তোমাতেই মিইশা গেছি
দেয়া নেয়ার এই পৃথিবীতে এখন আর
কোনো তুমি নাই আমি নাই।
আমরা হইয়া ভাসি আর ভাসাই পৃথিবী
মহা সংসারে হাল বাই, মাটি চষি
গাঙ্গের পানিতে ছাড়ি পোনা মাছ
গাছের গোড়ার সাথে পুঁইতা রাখি আশা

হাল বাইতে বাইতে একদিন নাল জমি চাষের যোগ্য হবে
পুকুর ভইরা উঠবে ডিমঅলা মাছের আবাদে
বাগান জুইড়া কেবলই গাছের জঙলা
আমাদের কবরের উপর উঠবে এক নতুন আবাদী-ফসলি দুনিয়া
খাবারে ভরা মানুষের পাত।

সেই দুনিয়াতে কোনো কোরআন নাই
নাই তৌরাত-যবুর-ইঞ্জিল কিবা বেদ-গীতা-ত্রিপিটক-বাইবেল।
সেইখানে মানুষের ধর্ম হইবো চাষবাস
নিয়ত হইবো অঢেল ফসলের
মুনকির নাকির লিখবো হিসাব জনম জনম ধইরা
কত ফসলের করছিলাম আবাদ
কত মানুষের পেটে দিছিলাম ভাত

সেই দুনিয়ায় ইবাদতের নাম ‘ভালোবাসা’

ডাকনাম

বিশ্বাস করেন,
কোনোদিন ভাবিনাই দুঃখের চাষ করবো
ভাবিনাই সার দিয়া জন্মাবো যৌবনবতী গাছ
আর তাতে রৈদের রঙে ফলাবো দুঃখুফল!
কোনোদিন সাচ্চা দিলে দুঃখ দিয়া ভাবিনাই
কামিয়াব হবে আমার কবিতা
তবু আমার শরীর ভরা হরফ
মাঝরাইতে দেখি নিদ নাই
বাউলবাতাসে অন্ধ আমার দুই চোখ
তখন, কবির আঙ্গুল হতে ঝইরা পড়ে
টুপটাপ জোছনার ফুল!

আমার
তামার বরণ মুখের রং দুঃখের আঁচে
হঠাৎ দেখি লাগে যেন খাঁটি সোনার বরণ
আর, এইসব দু:খ-জোছনা-অন্ধ সুখ-বাসনারে
কারা যেন ‘কবিতা’ ‘কবিতা’ বইলা
ডাকনামে ডাকে।

শেয়ার করুন: