004588
Total Users : 4588
Charbak magazine logo
sorolrekha logo

লেখক তালিকা

জন্ম. ২৩ নভেম্বর ১৯৭৫, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার পাত্রখোলা চা বাগানে। সম্পাদনা করছেন ‘চারবাক’ ও ‘সরলরেখা’। যুক্ত আছেন সাপ্তাহিক সাহিত্য আড্ডা ‘শুক্কুরবারের আড্ডা’র সাথে। লিটল ম্যাগাজিন সংগ্রহ ও প্রদর্শন কেন্দ্রের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রকাশিত গ্রন্থ: মায়াহরিণ, কাব্যগ্রন্থ ২০০৮, চারবাক, বুদ্ধিজীবীর দায়ভার, সম্পাদনা ২০০৯, সংবেদ, পক্ষ—প্রতিপক্ষ অথবা শত্রু—মিত্র, প্রবন্ধ ২০১০, চারবাক, নির্বাচিত চারবাক, সম্পাদনা ২০১১, চারবাক, নাচঘর, কবিতা, ২০১২, চারবাক, ভাষা সাম্প্রদায়িকতা অথবা সাম্রাজ্যবাদি খপ্পর, প্রবন্ধ, ২০১৩, চারবাক এবং মুখোশ, কবিতা, ২০১৬, চারবাক, করোনাকালে, কবিতা, ২০২২, চারবাক।
View Posts →
কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক
View Posts →
প্রাবন্ধিক ও চিন্তাবিদ
View Posts →
বাংলাদেশের উত্তরউপনিবেশি ভাবচর্চার পথিকৃৎ ফয়েজ আলম একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, অনুবাদক। উপনিবেশি শাসন-শোষণ আর তার পরিণাম, রাষ্ট্র ও সমধর্মী মেল কর্তৃক ব্যক্তির উপর শোষণ-নিপীড়ন ও ক্ষমতার নানামুখি প্রকাশ আর এসবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে টিকে থাকার কৌশল নিয়ে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে লিখছেন তিনি। বিশ্বায়নের নামে পশ্চিমের নয়াউপনিবেশি আর্থ-সাংস্কৃতিক আগ্রাসন আর রাষ্ট্র ও স্বার্থকেন্দ্রিক গোষ্ঠীর শোষণচক্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তার লেখা আমাদের উদ্দীপ্ত আর সাহসী করে তোলে। রুহানিয়াত সমৃদ্ধ দার্শনিক ভাবচর্চা আর সাহিত্যিক-রাজনৈতিক তত্ত্বচর্চাকে একসাথে কবিতার দেহে ধারণ করতে সক্ষম ফয়েজ আলমের সহজিয়া কবিতা। তার কবিতায় তিনি মানুষের প্রাত্যহিক মুখের ভাষার প্রতি উন্মুক্ত। যে ভাষাকে আমরা ব্রাত্য বানিয়ে রেখেছি একেই তিনি জায়গা করে দিয়েছেন কবিতায়। তাই প্রচলিত কাব্যভাষা থেকে তার কবিতার ভাষা ভিন্ন। বিভিন্ন প্রবন্ধে তিনি এ ভাষাকেই বলেছেন মান কথ্যবাংলা, আঞ্চলিকতার বাইরে সর্বাঞ্চলীয় বাঙালির প্রতিদিনের মুখের ভাষা। কবিতাগুলো কখনো কখনো বিভিন্ন ধ্বনি ও শব্দে বেশি বা কম জোর দিয়ে কথা বলার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করতে পারে, যেভাবে আমরা হয়তো আড্ডার সময় কথা বলি। এবং তা একই সাথে বক্তব্যের অতিরিক্ত ভাষারও অভিজ্ঞতা। খোদ ‘আওয়াজের সাথে ইশক’ যেন। প্রাণের আকুতি ও চঞ্চলতার সাথে তাই শূন্যতাও হাজির আছে। সেই সাথে জারি আছে ‘শব্দের দিলের ভিতরে আরো শব্দের আশা’। ফয়েজ আলমের জন্ম ১৯৬৮ সালে, নেত্রকোনা জেলার আটপাড়ার যোগীরনগুয়া গ্রামে। বাবা মরহুম শেখ আবদুস সামাদ, মা সামসুন্নাহার খানম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে বিএ (সম্মান) ও এমএ পাশ করার পর প্রাচীন বাঙালি সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ক গবেষণার জন্য এমফিল. ডিগ্রী লাভ করেন। গুরুত্বপূর্ণ কাজ: ব্যক্তির মৃত্যু ও খাপ-খাওয়া মানুষ (কবিতা, ১৯৯৯); প্রাচীন বাঙালি সমাজ ও সংস্কৃতি ( গবেষণা, ২০০৪); এডওয়ার্ড সাইদের অরিয়েন্টালিজম (অনুবাদ, ২০০৫); উত্তর-উপনিবেশি মন (প্রবন্ধ, ২০০৬); কাভারিং ইসলাম (অনুবাদ, ২০০৬), ভাষা, ক্ষমতা ও আমাদের লড়াই প্রসঙ্গে (প্রবন্ধ, ২০০৮); বুদ্ধিজীবী, তার দায় ও বাঙালির বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব (প্রবন্ধ, ২০১২), জলছাপে লেখা (কবিতা, ২০২১), রাইতের আগে একটা গান (কবিতা, ২০২২); ভাষার উপনিবেশ: বাংলা ভাষার রূপান্তরের ইতিহাস (প্রবন্ধ, ২০২২)।
View Posts →
কবি ও গল্পকার। যুক্ত আছেন চারবাক সম্পাদনা পরিবারের সাথে।
View Posts →
কবি। জন্ম মৌলভীবাজার জেলায়।
View Posts →
প্রাবন্ধিক। অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক। বর্তমানে প্রান্তীয় কৃষক-মধুচাষি, বেতবাঁশ শিল্পের সাথে জড়িত লোকজন নিয়ে কাজ করছেন।
View Posts →

সম্পূর্ণ লেখক তালিকা

উইলিয়াম বারোজের সাক্ষাৎকার

{উইলিয়াম বারোজের জন্ম ৫ ফেব্র“য়ারি ১৯১৪ সালে সেন্ট লুইসের এক বিত্তশালি পরিবারে। হার্ভার্ডের স্নাতক। ইয়োরোপে প্রচুর ঘুরে বেড়িয়েছেন, তারপর আমেরিকায় ফিরে আসেন এবং নানা রকম কাজ করতে থাকেন। ডিটেকটিভের কাজ, পোকামাকড় মারা, বারটেন্ডার ইত্যাদি নানা রকম কাজ করেছেন। তিনি মেক্সিকো, ট্যানজিয়ার, লন্ডন এবং প্যারিসে থেকেছেন। তার প্রথম বই ‘জাঙ্কি : কনফেশানস অব অ্যান আনরিডিমড ড্রাগ অ্যাডিক্ট’ (১৯৫৩)। বারোজের নাম করা কাজ হল ‘নেকেড লাঞ্চ’ (১৯৫৯) যা নিয়ে রবার্ট লোয়েল বলেছেন যে ‘এটা খুবই শক্তিশালি এবং গুরুত্বপূর্ণ বই। গদ্য এবং কবিতার যে কোনো ভাল বইয়ের পাশাপাশি এর জায়গা, যা একজন বিট প্রজন্মের লেখক লিখেছেন এবং এমন জ্যান্ত বই বহু বছর পর একজন আমেরিকান লিখলেন।’ বারোজের অন্যান্য বইগুলো-দ্য একস্টারমিনেটর (ব্রায়ান জিসিনের সঙ্গে, ১৯৬০), দ্য সফটমেশিন (১৯৬১), দ্য টিকিট দ্যাট এক্সপ্লোডেড (১৯৬২), দ্য ইয়েগ লেটারস (অ্যালান গিনসবার্গ-এর সঙ্গে, ১৯৬৩) এবং নোভা এক্সপ্রেস (১৯৬৪)}

প্রশ্ন : আপনি এখানে বড় হয়েছেন?

বারোজ : হ্যাঁ। আমি জন বারোজ আর টেলর স্কুলে পড়েছি, তারপর কিছুদিনের জন্য পশ্চিমে ছিলাম আর তারপর হার্ভার্ডে।

প্রশ্ন : যোগযন্ত্র কারখানার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক?

বারোজ : আমার পিতামহ। দেখুন আসলে যোগযন্ত্রটা ঠিক উনি আবিষ্কার করেননি, উনি আবিষ্কার করেছিলেন চমকটা যা ওটাকে চালাত— যেমন, এটা তেল ভর্তি চোঙ আর একটা ছেঁদাওয়ালা পিস্টন গতির তালে যা ওপর-নিচ করবে। খুবই সাধারণ নিয়ম, অন্যান্য আবিষ্কারের মতোই। আর ওটা আমায় কিছু টাকা দিত, বেশি বিস্তর নয়, অল্পই।

প্রশ্ন : হার্ভার্ডে আপনি কি করতেন?

বারোজ : ইংরেজি সাহিত্য পড়তাম। জন লিভিংস্টোন লোয়েস। হুইটিং। কিটরেজ-এর ওপর আমি পরীক্ষা দিয়েছি। এদেরই মনে পড়ছে যারা প্রধান ছিলেন। আমি অ্যাডামস হাউসে থাকতাম তারপর খাওয়াদাওয়া নিয়ে ভক্তি চটে গেলে ক্লেভারলি হল-এ চলে যাই, যেখানে আমি শেষ দু’বছর ছিলাম। কলেজে আমি কোনো লেখালেখিই করিনি।

প্রশ্ন : কখন এবং কেন আপনি লিখতে শুরু করেছিলেন?

বারোজ : ১৯৫০ নাগাদ আমি লিখতে শুরু করি; সে সময় আমার পঁয়ত্রিশ বছর বয়স ছিল; কোনো দারুণ কিছু প্রেরণা ছিল বলে মনে হয় না। আমি সহজভাবে চেষ্টা করছিলাম সাংবাদিকতার ছকে সোজাসুজি নেশা আর নেশাড়িদের সঙ্গে আমার অভিজ্ঞতা লেখার।
প্রশ্ন : আপনি কেন এই অভিজ্ঞতাগুলো লিপিবদ্ধ করতে বাধ্য হচ্ছিলেন?

বারোজ : বাধ্য তো হইনি। আমার কিছু করার ছিল না। রোজ আমাকে কিছু একটা করতে সাহায্য করছিল এই লেখালেখি। অভাবনিয় কিছু একটা ফল হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। ‘জাংকি’ আসলে তেমন কিছু একটা বই নয়। সে সময় লেখালেখির ব্যাপারে আমি কমই জানতাম।

প্রশ্ন : এটা কোথায় ঘটেছিল?

বারোজ : মেক্সিকো শহরে। মেক্সিকো বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেই আমি থাকতাম সিয়ার্স, রোবাক-এ। আমি চার পাঁচ মাস সেনাবাহিনিতে ছিলাম তখন জি.আই. বিল-এ সেখানে স্থানিয় অধিবাসিদের আঞ্চলিক ভাষা পড়ছি। আমার মেক্সিকোতে যাওয়ার আরেকটা কারণ ছিল আমেরিকায় নেশার ব্যাপারে প্রচণ্ড ঘোঁট পাকানো একটা অবস্থা। মেক্সিকোতে নেশার বস্তু সহজলভ্য ছিল, তাই আমাকে ছুটে বেড়াতে হত না, আর পুলিশের চাপও ছিল না।

প্রশ্ন : আপনি কেন ড্রাগ নিতে শুরু করেন?

বারোজ : বিশেষ কিস্যু না’ স্রেফ বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। আমার খুব কিছু আগ্রহ ছিল না— বিজ্ঞাপনের সফল কার্যনির্বাহক হওয়ার অথবা যা কিছু, অথবা এমন একটা জীবন কাটানো যা হার্ভার্ডে আপনার জন্য তৈরি করে দেয়। ১৯৪৪-এ নিউইয়র্কে যখন আমি নেশাড়ি হয়ে গেছি তখন নানারকম ব্যাপার ঘটতে লাগল। কিছু আইনি ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ি, বিয়ে করি, প্রথমে নিউ অর্লিয়ন্স তারপর মেক্সিকোতে থাকতে শুরু করি।

প্রশ্ন : এ দেশে নেশা নিয়ে মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে উঁকিমারার মধ্যবিত্ত গেঁড়েমি প্রচুর আছে আর লেখালেখির জগতে নেশাড়িদের প্রতি আছে বিস্ময়, ভয় ও ভালবাসা মিশ্রিত গভীর শ্রদ্ধা। আপনি তো এইসব দৃষ্টিভঙ্গি মানেন না।

বারোজ : না, বেশির ভাগটাই ফালতু। আমি মনে করি রাসায়নিক পদ্ধতিতে বিপাক পাল্টাবার জন্য এবং এভাবেই বাস্তব বলতে যা বুঝি তা পাল্টানোর জন্য ড্রাগ হল এক কৌতূলহলজনক বস্তু। আমি এভাবে ব্যাখ্যা করি যে সেটা হল অবিরাম খুঁটিয়ে পরীক্ষার পদ্ধতি।

প্রশ্ন : দৃষ্টিবিভ্রমকারি ড্রাগের ব্যাপারে এবং নতুন সাইকেডেলিক ড্রাগ এলএসডি-২৫ প্রসঙ্গে আপনার কি মত?

বারোজ : আমি মনে করি ওগুলো ভীষণ বিপদজনক, হেরোইনের থেকেও বেশি বিপদজনক। অত্যধিক অদম্য অস্থির অবস্থা তৈরি করতে পারে ওগুলো। আমি লোকজনকে দেখেছি যারা জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়তে চেষ্টা করেছে, যেখানে একজন হেরোইনগ্রস্ত নেশাড়ি তার পায়ের পাতার দিকে তাকিয়ে থাকতে বেশি আগ্রহি। ড্রাগটি নেওয়ার জন্য যে ক্ষতি তাছাড়া তার যে প্রধান ভয় সেটি হল অপরিমিত মাত্রার। ভাগ্যক্রমে অস্থির অবস্থা ছাড়াই আমি বেশিরভাগ দৃষ্টি বিভ্রমকারি ড্রাগ নিয়ে দেখেছি। এলএসডি-২৫ আমার কাছে মেসকালিন নেওয়ার মতো অবস্থার সৃষ্টি করেছিল। সমস্ত দৃষ্টিবিভ্রমকারি ড্রাগের মতোই এলএসডি আমাকে বর্ধিত সচেতনতা দিয়েছে, সত্যি বিভ্রম বদলে দিয়েছে দৃষ্টিভঙ্গির বিভ্রম। আপনি দরজার একটা গোল হাতলের দিকে তাকিয়ে থাকলে দেখবেন তা বৃত্তাকারে ঘুরছে, যদিও আপনি এব্যাপারে সচেতন যে এটা ঘটছে ড্রাগটা নেওয়ার জন্য। এছাড়াও ভ্যানগগিয় রঙ, ওইসব ঘূর্ণিসমেত আর বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের চড়চড় শব্দ।

প্রশ্ন : মেসকালিন নিয়ে হেনরি মিকক্সের বইটা পড়েছেন?

বারোজ : ওর ইচ্ছে ছিল নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে অভিজ্ঞতাগুলোকে ধরে রাখা। মেসকালিন নিয়ে আমার আগ্রহজনক অভিজ্ঞতাগুলো তখনই ঘটেছে যখন আমি ঘরের বাইরে গিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছি-রঙ, সূর্যাস্ত, বাগান-এর ভেতর। যদিও এটার একটা বিশ্রী ভয়ংকর খোয়ারি আছে। এটা একজনকে অসুস্থ করে দেয় আর সমন্বয়ে বাধা দেয়। আমার চাহিদার সবরকম আগ্রহজনক ফলাফল আমি পেয়েছি আর ওই প্রচণ্ড অপ্রীতিকর শারীরিক প্রতিক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি আমি চাই না।

প্রশ্ন : ড্রাগ-এর ভিশন আর আর্ট-এর ভিশন কি মেলে?

বারোজ : কখনোই না। দৃষ্টি বিভ্রমকারি ড্রাগ জন্ম দেয় অনেকটা কল্পনাপ্রবণ অবস্থার, কিন্তু মরফিন আর তার থেকে বের করা অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্য মনের সচেতনতা, চিন্তা আর অনুভূতি কমিয়ে দেয়। এগুলো শুধুমাত্র যন্ত্রণা কমার ওষুধ। সৃজনশিল কাজের পক্ষে এগুলো উপযোগি নয় এবং আমি এর সাথে জুড়তে চাই মদ, মরফিন, বারবিচুরেটস, ট্রাঙ্কুইলাইজার-এবং ব্যথা কমানো ওষুধের পুরো সংসারটাকেই। ভিশন আর হেরোইন নিয়ে বলতে গেলে বলা যায় নেশার শুরুতে আমার এই কল্পনাবস্থা একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ছিল, যেমন মহাকাশে দুরন্ত গতিতে ছুটে চলার অনুভূতি, কিন্তু যখন আমি নেশাড়ি হয়ে পড়লাম আমার আর কোনো ভিশন হত না এমনকি খুব কম স্বপ্ন দেখতাম।

প্রশ্ন : আপনি ড্রাগ নেওয়া বন্ধ করলেন কেন?

বারোজ : ১৯৫৭ সালে আমি ট্যানজিয়ারে ছিলাম, ক্যাশবায় একটা ছোট্ট ঘরে আমার পায়ের পাতার দিকে তাকিয়ে একমাস কাটিয়ে দিয়েছিলাম। ঘরটা ভরে উঠেছিল ইউকোডলের খালি ঠোঙায়, হঠাৎ আমি টের পেলাম যে আমি কিছুই করছি না। আমি মারা যাচ্ছি। দ্রুত শেষ হওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছি। তাই আমি লন্ডনে উড়ে গেলাম আর চিকিৎসার জন্য ডাক্তার জন ইয়েরবারি ডেন্ট-এর হাতে নিজেকে সঁপে দিলাম। আমি তার অ্যাপোমরফিন চিকিৎসার সাফল্যের কথা শুনেছিলাম। অ্যাপোমরফিন হল হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডে ফোটানো মরফিনের দ্রবণ এবং তা আসক্ত করে না। মরফিন আমার বিপাক নিয়ন্ত্রণ করেছিল। ওটা বিপাক নিয়ন্ত্রক। ওটা আমায় শারীরিকভাবে সারিয়ে তুলেছিল। আমি আগেই লেকসিংটনে একবার চিকিৎসা করিয়েছিলাম। যদিও আমি নেশা আর করতাম না, যখন ছাড়া পাই তবু কিছু শারীরবৃত্তিয় অবশেষ রয়ে গেছিল। অ্যাপোমরফিন সেটাকে দূর করে। আমি এদেশের লোকেদের মধ্যে এ ব্যাপারটায় আগ্রহি করে তুলতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। বেশিরভাগ মানুষই সমাজকর্মী, ডাক্তার-ড্রাগকে দেখে পুলিশি মানসিকতায়। কিছুদিন আগে অ্যাপোমরফিন চিকিৎসার ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে আমাকে চিঠি লেখেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক আধিকারিক, যিনি বন্ধুত্বপূর্ণ উপদেশ দিয়ে প্রাথমিক অপরাধিদের সংশোধনের কাজ করেন। আমি বড় করে চিঠির জবাব দিয়েছি। আমি চিঠির জবাব এভাবেই দিই।

প্রশ্ন : আপনার কোনো পুনরাসক্তি ঘটেছে?

বারোজ : হ্যাঁ, বার দুয়েক। খুব কম সময়ের জন্য। দু’বারই অ্যাপোমরফিন দিয়ে ঠিক করা হয় আর এখন হেরোইনের প্রতি আমার কোনো আসক্তি নেই। আগ্রহ নেই আর। চারধারে এসব আমি বহু দেখেছি। নেশাড়িদের বেশ কয়েকজনকে আমি চিনি। কোনো বিশেষ মানসিক শক্তি আমাকে ব্যবহার করতে হয় না। ডাক্তার ডেন্ট সবসময় বলতেন, মানসিক শক্তি বলে কিছু হয় না, এমন একটা মানসিক অবস্থায় পৌঁছতে হয় যখন আর ওটার দরকার বা চাহিদা কোনোটাই হয় না।

প্রশ্ন : আপনি নেশার আসক্তিকে শুধু অসুখ হিসেবে দেখেন তাই-ই নয় মানুষের একটা প্রধান ব্যাপার হিসেবেও দেখেন, একটা নাটক হিসেবে?

বারোজ : দুটোই, পুরোপুরি। যেভাবে একজন পাঁড়-মাতাল হয়ে যায় তেমনই সাধারণভাবে এটা ঘটে। তারা মদ খেতে শুরু করে, ব্যস ওইটুকুই। তাদের ভাল লাগে, আর তারা আরো মদ খায়, এবং তারপর তারা মাতাল হয়ে যায়। নিউইয়র্কে হেরোইন আমার নাগালের মধ্যে ছিল—অর্থাৎ আমি এমন সব লোকজনের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম যারা ওটা ব্যবহার করেছিল; আমি নিলাম; নিয়ে ভালই লাগল। আমি ওটা ব্যবহার করে চললাম আর নেশাড়ি হয়ে পড়লাম। মনে রাখা দরকার যে এটা যদি সহজেই পাওয়া যায় বহু লোকই নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়বে। এই ধারণা, যে নেশাগ্রস্ততা এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতা— আমার মতে একদম বাজে কথা। ম্যালেরিয়া যতটা মনস্তাত্ত্বিক এটাও ততটাই। ব্যাপারটা হল নাগালের মধ্যে নেশার বস্তুটা পাওয়া যাচ্ছে কি-না। সাধারণভাবে লোকজন যে কোনো মাদক গ্রহণ করবে তা যদি হাতের কাছে পাওয়া যায় এবং তা নিয়ে যদি ভাল লাগে। ইরানে তো কিছুদিন আগেও দোকানে দোকানে আফিম পাওয়া যেত আর কুড়ি কোটি জনসংখ্যার মধ্যে তিন কোটি লোকই নেশাগ্রস্ত। এছাড়াও নানারকম আধ্যাত্মিক নেশা হয়। রাসায়নিকভাবে যে নেশা করা যায় সেটা অন্যভাবেও করা যেতে পারে— অর্থাৎ যদি প্রক্রিয়াসমূহের ব্যাপারে আমাদের পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকে। অনেক পুলিশকর্মী আর মাদক দালালই ক্ষমতার নেশায় বুঁদ, অসহায় মানুষগুলোর ওপর এক ধরনের কদর্য ক্ষমতা তারা প্রয়োগ করে। এই কদর্য ক্ষমতাকে আমি বলি সাদা মাদক-নীতিসম্মত, তারা ঠিক, ঠিক, ঠিক— এবং তারা যদি ওই ক্ষমতা হারায়, তারা সেই প্রচণ্ড কষ্ট ভোগ করবে যা একজন নেশাড়ি ভোগ করে যখন মাদক অভ্যস্ত তার শরীর সময়ে মাদক না পায়। রাশিয়ান আমলাতন্ত্রের যে পুরো ছবি আমরা পাই তাতে দেখি লোকজন ক্ষমতার নেশায় বুঁদ হয়ে আছে। এটাও নিশ্চয় একধরনের নেশা। যদি তারা সে ক্ষমতা হারায়? এ ক্ষমতার জন্য তো তারা পুরো জীবনটাই দিয়ে দিয়েছে।

প্রশ্ন : আপনি মাদককে রূপক হিসেবে আরো একটু বড় করে বলতে পারবেন?

বারোজ : এটা শুধুমাত্র একটা তত্ত্ব যা মনে হয় যথেষ্ট নয়। আমার মনে হয় না কেউ বোঝে মাদক ব্যাপারটা কি বা সেটা কিভাবে কাজ করে, কিভাবে যন্ত্রণা কমায়। আমার ধারণা অনেকটা অন্ধকারে হাতড়ে বেড়াবার মতো। আমি এটাকে এভাবে দেখি যে যন্ত্রণার যে ব্যাপারটাকে নষ্ট করা হচ্ছে সেটা একটা রূপক, এবং মরফিন কোনোভাবে এই জায়গাটা নিয়ে নিচ্ছে। আমরা জানি এটা জীবকোষগুলো ঢেকে রাখে আর নেশাড়িরা কার্যত নিরাপদ থাকে নির্দিষ্ট কিছু ভাইরাস থেকে, ইনফ্লুয়েঞ্জা আর নিঃশ্বাসের কষ্ট থেকে। এটা খুবই সাধারণ। কারণ, ইনফ্লুয়েঞ্জার ভাইরাসকে জীবকোষ গ্রাহকে একটা ফুটো তৈরি করতে হয়। কিন্তু যখন ওগুলো ঢাকা থাকে যেটা মরফিন নেশাগ্রস্তদের ক্ষেত্রে ঘটে, ভাইরাসগুলো ভেতরে ঢুকতে পারে না। যে মুহূর্তে মরফিন সরিয়ে নেওয়া হবে নেশাড়িরা ইনফ্লুয়েঞ্জায় ঠাণ্ডা লেগে অসুস্থ হয়ে পড়বে।

প্রশ্ন : কিছু পাগলও নিঃশ্বাসের কষ্ট থেকে মুক্ত থাকে।

বারোজ : বহুদিন আগে আমি বলেছিলাম চূড়ান্ত ড্রাগ আসক্তি আর চূড়ান্ত পাগলামির মধ্যে বেশ কিছু মিল আছে। সেই জন্য আমি একবার বলেছিলাম যে ওরা এই সমস্ত মানুষকে হেরোইন নেশাড়ি বানিয়েছে এবং তারপর হেরোইন বন্ধ করে দেখেছে তাদের প্ররোচিত করা যায় কি-না, অন্যভাবে এটা দেখা যায় যে তারা ঘর পেরিয়ে সিরিঞ্জ তুলতে এগিয়ে যায় কি-না। বলাবাহুল্য আমি এটা নিয়ে বেশিদূর যেতে পারিনি। কিন্তু আমার মনে হয় এই ব্যাপারটা খুবই আগ্রহজনক হত।

প্রশ্ন : মাদক তাহলে সাধারণ উপলব্ধি নষ্ট করে?

বারোজ : আর জন্ম দেয় রূপকের জন্য এলোমেলো আকুল কামনা। আমেরিকায় ড্রাগ যদি নিষিদ্ধ না হত তাহলে মধ্যবিত্তদের জন্য তা হত পূর্ণাঙ্গ বদভ্যাস। নেশাড়িরা কাজ করে বাড়ি ফিরে মাস মিডিয়ায় তাদের জন্য অপেক্ষায় থাকা রূপকের বিশাল মাত্রা গ্রহণ করবে। নেশাড়িরা টেলিভিশন দেখতে ভালবাসে। বিলি হলিডে বলেছিলেন, তিনি যে নেশা ছেড়ে দিচ্ছেন তা তিনি বুঝতে পারেন যখন দেখেন যে টেলিভিশন দেখতে তার আর ভাল লাগছে না। অথবা তারা বসে বসে খবরের কাগজ অথবা পত্রিকা পড়বে এবং আদ্যপান্ত পড়বে মাইরি। নিউইয়র্কে আমি একজন বুড়ো নেশাড়িকে জানতাম যে বাইরে বেরিয়ে প্রচুর খবরের কাগজ পত্রিকা আর কিছু ক্যান্ডিবার আর বেশ কয়েক প্যাকেট সিগারেট কিনে নিয়ে এসে ঘরে বসে ওই সমস্ত খবরের কাগজ পত্রিকার সবটা পড়ত। কোনো কিছু বাদ দিত না। প্রত্যেকটা শব্দ পড়ত।

প্রশ্ন : বেশির ভাগ লেখক যেভাবে সচেতন, যুক্তি দিয়ে ব্যাপারটাকে দেখেন, আপনি সেটাকে এড়িয়ে যেতেই প্রধানত আগ্রহি।

বারোজ : আমি জানি না গল্প সাধারণভাবে ঠিক কোনদিকে এগোয় কিন্তু আমি নিজেকে স্বেচ্ছায় সেই পুরো সাম্রাজ্যের কথা বলি-যাকে স্বপ্ন বলে। স্বপ্ন আসলে কি? শব্দ আর রূপকের একটা নির্দিষ্ট পাশাপাশি অবস্থান। আমি কিছুদিন আগে স্ক্র্যাপ খাতা নিয়ে প্রচুর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি। খবরের কাগজে আমি কিছু যদি পড়ি যা আমাকে মনে পড়াবে অথবা সংযোগস্থাপন করবে যা আমি লিখেছি তার সাথে। তখন আমি ছবি অথবা লেখাটা কেটে নিয়ে আমার বইয়ের শব্দের পাশে স্ক্র্যাপ খাতায় সেঁটে দেব। অথবা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ আমার বইয়ের একটা দৃশ্য দেখব এবং তার ফটো তুলে নেব আর তারপর সেঁটে দেব স্ক্র্যাপ খাতাটিতে। ওগুলো কিছু কিছু আপনাকে আমি দেখাব। আমি দেখেছি একটা পাতা তৈরি করার সময় সেই রাতে নির্ঘাত স্বপ্ন দেখব শব্দ আর রূপকের পাশাপাশি অবস্থান সম্পর্কে। অন্যভাবে বলতে গেলে রূপক আর শব্দ কিভাবে জটিল সম্পর্কে একে অন্যের পাশে বসে খেলা করে তাই নিয়েই আমি আগ্রহি ছিলাম। যাকে আমি বলি সময় ভ্রমণ তা নিয়েও আমি প্রচুর অনুশিলন করি, সূত্রগুলো নিয়ে যেমন ট্রেনে আমি কি ফটো তুলেছি, তখন আমি কি ভাবছিলাম, কি পড়ছিলাম আর কি লিখেছি। এই সমস্ত কিছু এটা দেখতে যে ওই নির্দিষ্ট সময়ে আমি নিজেকে কতটা সম্পূর্ণভাবে ফেরত পাঠাতে পারি।

প্রশ্ন : ‘নোভা এক্সপ্রেসে’ আপনি দেখান নিরবতা একটা কাম্য অবস্থা।

বারোজ : সব থেকে কাম্য অবস্থা। এক অর্থে শব্দ আর ছবির এক বিশেষ ব্যবহার নিরবতা সহায়ক হতে পারে। স্ক্র্যাপ খাতা আর সময়-ভ্রমণ সচেতনতা বাড়াবার অনুশিলন, এটা আমাকে শব্দমাত্র নয়, একত্রিত একটা ব্লক হিসেবে চিন্তা করতে শেখায়। কিছুদিন আগে হাইআয়োগ্লিফ নিয়ে পড়াশুনা করে কিছুটা সময় কাটিয়েছি, মিশরিয় এবং মায়া দুটোই। ওরকম একত্রিত ব্লক ভাবা যায়। শব্দ অন্তত, যেভাবে আমরা ব্যবহার করি শরীরহীন অভিজ্ঞতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে। শরীর ফেলে রেখে এগিয়ে যাওয়ার কথা ভাবা উচিত।

প্রশ্ন : মার্শাল ম্যাকলুহান বলেছিলেন, যে আপনি বিশ্বাস করেন যে মানুষের শরীরকে যার ভেতর বিশ্বব্রহ্মাণ্ড আছে পরিবেশে পরিণত করতে গেলে হেরোইনের দরকার। কিন্তু আপনি আমাকে যা বললেন তাতে শরীরকে পরিবেশে পরিণত করতে আপনি আদৌ আগ্রহি নন।

বারোজ : না। মাদক সচেতনতা কমিয়ে আনে। লেখক হিসেবে যেটুকু লাভ আমি পেয়েছি (তোষামোদের বিরাট পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ ছাড়া) তা মাদক ছাড়ার পরই আমি পেয়েছি। বাইরের দিকে তাকাতে চাই। কি আছে সেটা দেখতে, শিখতে চাই। যতটা সম্ভব চারধারের প্রতি সম্পূর্ণ সচেতন হয়ে উঠতে চাই। বেকেট চান ভিতরে ঢুকে যেতে। প্রথমে তিনি ছিলেন একটা বোতলে এবং এখন তিনি কাদার ভেতর। আমার লক্ষ্য অন্য দিকে : বাইরের দিকে।

প্রশ্ন : আপনি কি শুধু রূপককে চিন্তা করতে পারেন যতটুকু সময়ই সেটা হোক না কেন, যখন অন্তর আত্মা নিরব থাকে?

বারোজ : আমি আরো পারদর্শী হয়ে উঠছি। কিছুটা আমার স্ক্র্যাপ খাতার কাজ কারবারে এবং শব্দ ও রূপকের সংযোগ স্থাপনের খোঁজে। এটা চেষ্টা করতে পারেন: একটা অনুচ্ছেদের মানে খুব মন দিয়ে মুখস্থ করুন, তারপর সেটা পড়ুন, আপনি দেখবেন ওটা আপনি পড়তে পারছেন মনের কানে শব্দের কোনো ঝংকার না তুলেই। অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতা আর যেটা স্বপ্নেও চলে যাবে। আপনি যখন শব্দ ছাড়াই রূপকে ভাবতে শুরু করবেন তখন আপনার কাজ অনেকটাই হয়ে যাবে।

প্রশ্ন : শব্দহীন অবস্থা এত কাঙক্ষণিয় কেন?

বারোজ : আমার মনে হয় এটা একটা বিশেষ প্রবণতা। শব্দ আসলে গরুর গাড়িতে পৃথিবী প্রদক্ষিণের মতো ব্যাপার, একটা বিশ্রী অবস্থা, আর এগুলোকে হয়ত সরিয়েই রাখা হবে, যা আমরা ভাবছি তার আগেই হয়ত। এটা স্পেশএজে ঘটবেই। বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ লেখকই নিজেদের সহজলভ্য করতে চাইছেন না টেকনোলজি যা করছে তার কাছে। এই ভয়টার কারণ আমি কখনই বুঝতে পারিনি। অনেকেই টেপরেকর্ডার-এর ব্যাপারে ভীত আর সাহিত্যের জন্য কোনোরকম যান্ত্রিক সহায়তাই তাদের কাছে একধরনের সাহিত্যের অপবিত্রকরণ-এর মতো। কাটআপ নিয়ে বিরোধিতার এটাও একটা কারণ। এসব প্রচুর আছে শব্দ নিয়ে এক ধরনের কুসংস্কারগ্রস্ত শ্রদ্ধা। ভগবান, ওরা বলে তুমি এইসব শব্দ কাটাছেঁড়া করতে পার না। কেন পারি না? এই কাটআপ নিয়ে লেখকদের থেকে অনেক সহজে যারা লেখক নয় সেই সব ডাক্তার, আইনজীবী অথবা ইঞ্জিনিয়ার যে কোনো খোলা মনের মোটামুটি বুদ্ধিমান লোকজনের আগ্রহ আমি দেখেছি।

প্রশ্ন : এই কাটআপ পদ্ধতিতে আপনি কিভাবে আগ্রহি হলেন?

বারোজ : একজন বন্ধু, ব্রায়ান জিসিন, একজন আমেরিকান কবি ও পেইন্টার— যে ইউরোপে তিরিশ বছর ছিল, এই কাট-আপ প্রথম সৃষ্টি করে-মানে যতটা আমি জানি আর কি! ওর কাট-আপ কবিতা ‘মিনিটস্ টু গো’ বিবিসিতে সম্প্রচার হয় এবং পরে পুস্তিকা আকারে প্রকাশিত হয়। ১৯৬০ সালের গ্রীষ্মে আমি প্যারিসে ছিলাম। এটা ওখানে নেকেড লাঞ্চ প্রকাশের পরে, আমি এই পদ্ধতির সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহি হয়ে পড়ি এবং আমি নিজে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করি। যদিও আপনি যদি ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ডে’র কথা ভাবেন ওটাই প্রথম দারুণ একটা কাট-আপ কোলাজ আর ত্রিস্তঁ জারা এই লাইনেই কিছু কাজ করেছেন। দম পাসোসও আমেরিকায় ‘দ্য ক্যামেরা আই’-এর অনুক্রমগুলোতে একই ভাব ব্যবহার করেছেন। আমি অনুভব করেছিলাম যে আমিও তো একই লক্ষ্যে কাজ করে চলেছি তাই আমার কাছে এটা ছিল একটা রহস্য উন্মোচনের ব্যাপার যখন দেখলাম সত্যি ওটা কেউ করেছে।

প্রশ্ন : কাট-আপ একজন পাঠককে কি দেয় যা প্রচলিত ধারাবাহিক বর্ণনা দেয় না?

বারোজ : যে কোনো বর্ণনামূলক অংশ অথবা যেকোনো অংশই, ধরা যাক কাব্যিক রূপকের অংশে নানারকম বিভিন্নতা থাকে সবগুলোই আগ্রহজনক অকাট্য হতে পারে তার নিজস্ব যুক্তিতে। একপাতা র‌্যাঁবো কাট-আপ এবং ভিন্নভাবে সাজানো হলে তা আপনাকে নতুন রূপক উপহার দেবে। র্যাঁবোর রূপক সত্যিকারের র‌্যাঁবোর রূপক-কিন্তু আবারও নতুন।

প্রশ্ন : আপনি তো রূপক জড়ো করার বিরুদ্ধে অথচ একই সময় আপনি রূপক খুঁজছেন।

বারোজ : হ্যাঁ, যে কেউ শব্দ আর রূপক নিয়ে কাজ করুন না কেন, এটা একটা স্ববিরোধি ব্যাপারের অংশ। কারণ একটা লেখক তাই করে চলেছে। একজন পেইন্টারও। কাট-আপ রূপকের মধ্যে নতুন সংযোগ স্থাপন করে আর একজনের দৃষ্টিশক্তি, কল্পনা বাড়ে।

প্রশ্ন : কাঁচি আর ওইসব টুকরো কাগজের ঝামেলায় না গিয়ে ওই একই ফল কি টাইপরাইটারে বসে স্বাধীনভাবে করা সম্ভব নয়?

বারোজ : ওভাবে ওটাকে যথেষ্ট পরিমাণে করা যায় না। যেমন ধরুন আমি যদি এটার কাট-আপ করতে চাই (‘দ্য নেশান’-এর একটা কপি তুলে নিয়ে), এটাকে আমি অনেকভাবে করতে পারি। আমি দুটো কলাম একবারে পড়তে পারি; এভাবে বলা যাক। ‘আজকে মানুষের স্নায়ু আমাদের চারধারে ঘিরে আছে। প্রতিটি টেকনোলজির প্রসারণ যা বাইরে বেরিয়েছে তা বৈদ্যুতিক এবং যৌথ পরিবেশের এক অবস্থা। মানুষের স্নায়ুসংক্রান্ত পরিবেশ পদ্ধতিরই নতুনভাবে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা যায় তার সমস্ত ব্যক্তিগত ও সামাজিক মূল্য নিয়েই, কারণ তা ভিতরের জিনিস। সে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে যা যুক্তিগ্রাহ্য ও দুরন্ত এবং যে কোনো একটা রেডিওর জালের মতোই যা নতুন পরিবেশ গিলে নেয়।’ আপনি দেখবেন এটা অরিজিনালের মতোই এরও খানিকটা মানে আছে। আপনি শব্দ বাদ দিতে শিখবেন আর সংযোগ স্থাপন করতে। (আঙুল দিয়ে দেখিয়ে) যদি আমি এটাকে মাঝামাঝি কেটে ফেলি আর এটাকে যদি উপরে তুলে দিই। আপনি এটা মাথায় রাখতে পারবেন না। এটা অনেকটা দাবার অনেকগুলো চাল মাথায় রাখার মতো, এটা করা যায় না। মানসিক দমন আর বাছাইয়ের কলকব্জাগুলোও আপনার বিরুদ্ধে কাজ করে।

গ্রহণ : কনরাড নিকারবোকার

ভাষান্তর : শুভঙ্কর দাশ

বর্ষ ৬, সংখ্যা ১০, ফেব্রুয়ারি ২০০৭

শেয়ার করুন: