004633
Total Users : 4633
Charbak magazine logo
sorolrekha logo

লেখক তালিকা

জন্ম. ২৩ নভেম্বর ১৯৭৫, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার পাত্রখোলা চা বাগানে। সম্পাদনা করছেন ‘চারবাক’ ও ‘সরলরেখা’। যুক্ত আছেন সাপ্তাহিক সাহিত্য আড্ডা ‘শুক্কুরবারের আড্ডা’র সাথে। লিটল ম্যাগাজিন সংগ্রহ ও প্রদর্শন কেন্দ্রের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রকাশিত গ্রন্থ: মায়াহরিণ, কাব্যগ্রন্থ ২০০৮, চারবাক, বুদ্ধিজীবীর দায়ভার, সম্পাদনা ২০০৯, সংবেদ, পক্ষ—প্রতিপক্ষ অথবা শত্রু—মিত্র, প্রবন্ধ ২০১০, চারবাক, নির্বাচিত চারবাক, সম্পাদনা ২০১১, চারবাক, নাচঘর, কবিতা, ২০১২, চারবাক, ভাষা সাম্প্রদায়িকতা অথবা সাম্রাজ্যবাদি খপ্পর, প্রবন্ধ, ২০১৩, চারবাক এবং মুখোশ, কবিতা, ২০১৬, চারবাক, করোনাকালে, কবিতা, ২০২২, চারবাক।
View Posts →
কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক
View Posts →
প্রাবন্ধিক ও চিন্তাবিদ
View Posts →
বাংলাদেশের উত্তরউপনিবেশি ভাবচর্চার পথিকৃৎ ফয়েজ আলম একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, অনুবাদক। উপনিবেশি শাসন-শোষণ আর তার পরিণাম, রাষ্ট্র ও সমধর্মী মেল কর্তৃক ব্যক্তির উপর শোষণ-নিপীড়ন ও ক্ষমতার নানামুখি প্রকাশ আর এসবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে টিকে থাকার কৌশল নিয়ে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে লিখছেন তিনি। বিশ্বায়নের নামে পশ্চিমের নয়াউপনিবেশি আর্থ-সাংস্কৃতিক আগ্রাসন আর রাষ্ট্র ও স্বার্থকেন্দ্রিক গোষ্ঠীর শোষণচক্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তার লেখা আমাদের উদ্দীপ্ত আর সাহসী করে তোলে। রুহানিয়াত সমৃদ্ধ দার্শনিক ভাবচর্চা আর সাহিত্যিক-রাজনৈতিক তত্ত্বচর্চাকে একসাথে কবিতার দেহে ধারণ করতে সক্ষম ফয়েজ আলমের সহজিয়া কবিতা। তার কবিতায় তিনি মানুষের প্রাত্যহিক মুখের ভাষার প্রতি উন্মুক্ত। যে ভাষাকে আমরা ব্রাত্য বানিয়ে রেখেছি একেই তিনি জায়গা করে দিয়েছেন কবিতায়। তাই প্রচলিত কাব্যভাষা থেকে তার কবিতার ভাষা ভিন্ন। বিভিন্ন প্রবন্ধে তিনি এ ভাষাকেই বলেছেন মান কথ্যবাংলা, আঞ্চলিকতার বাইরে সর্বাঞ্চলীয় বাঙালির প্রতিদিনের মুখের ভাষা। কবিতাগুলো কখনো কখনো বিভিন্ন ধ্বনি ও শব্দে বেশি বা কম জোর দিয়ে কথা বলার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করতে পারে, যেভাবে আমরা হয়তো আড্ডার সময় কথা বলি। এবং তা একই সাথে বক্তব্যের অতিরিক্ত ভাষারও অভিজ্ঞতা। খোদ ‘আওয়াজের সাথে ইশক’ যেন। প্রাণের আকুতি ও চঞ্চলতার সাথে তাই শূন্যতাও হাজির আছে। সেই সাথে জারি আছে ‘শব্দের দিলের ভিতরে আরো শব্দের আশা’। ফয়েজ আলমের জন্ম ১৯৬৮ সালে, নেত্রকোনা জেলার আটপাড়ার যোগীরনগুয়া গ্রামে। বাবা মরহুম শেখ আবদুস সামাদ, মা সামসুন্নাহার খানম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে বিএ (সম্মান) ও এমএ পাশ করার পর প্রাচীন বাঙালি সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ক গবেষণার জন্য এমফিল. ডিগ্রী লাভ করেন। গুরুত্বপূর্ণ কাজ: ব্যক্তির মৃত্যু ও খাপ-খাওয়া মানুষ (কবিতা, ১৯৯৯); প্রাচীন বাঙালি সমাজ ও সংস্কৃতি ( গবেষণা, ২০০৪); এডওয়ার্ড সাইদের অরিয়েন্টালিজম (অনুবাদ, ২০০৫); উত্তর-উপনিবেশি মন (প্রবন্ধ, ২০০৬); কাভারিং ইসলাম (অনুবাদ, ২০০৬), ভাষা, ক্ষমতা ও আমাদের লড়াই প্রসঙ্গে (প্রবন্ধ, ২০০৮); বুদ্ধিজীবী, তার দায় ও বাঙালির বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব (প্রবন্ধ, ২০১২), জলছাপে লেখা (কবিতা, ২০২১), রাইতের আগে একটা গান (কবিতা, ২০২২); ভাষার উপনিবেশ: বাংলা ভাষার রূপান্তরের ইতিহাস (প্রবন্ধ, ২০২২)।
View Posts →
কবি ও গল্পকার। যুক্ত আছেন চারবাক সম্পাদনা পরিবারের সাথে।
View Posts →
কবি। জন্ম মৌলভীবাজার জেলায়।
View Posts →
প্রাবন্ধিক। অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক। বর্তমানে প্রান্তীয় কৃষক-মধুচাষি, বেতবাঁশ শিল্পের সাথে জড়িত লোকজন নিয়ে কাজ করছেন।
View Posts →
জন্ম— জুন, ০৬, ১৯৭৭। জন্মস্থান— উত্তর গোবীন্দর খীল, হাঁদু চৌধুরী বাড়ী, পটিয়া, চট্টগ্রাম। (শৈশব কৈশোর ও তারুণ্যের সময়যাপন) বেড়ে ওঠা (পূর্ব্ব বালিয়াদী, মীরশ্বরাই, চট্টগ্রাম) নানার বাড়ীতে। প্রকাশিত কবিতার বই— ফুলেরা পোষাক পরে না (সাল: ২০১৮, প্রকাশক : মনফকিরা, কলিকেতা)। প্রকাশিতব্য বই— অর্দ্ধনারীশ্বরবাদ : প্রকৃতিপুরুষতত্ত্ব (নন্দনতত্ত্ব), বটতলার বয়ান (ভাষাতাত্ত্বিক গদ্য) ও উদ্ভিদপ্রতিভা (কবিতা)। সম্পাদক— চারবাক।
View Posts →

সম্পূর্ণ লেখক তালিকা

ধুলোমাটির মানবসকল

দশ বছর আগে পাঠানো এই লেখাটি কম্পিউটারের হার্ডডিস্কে একটি ফোল্ডারে লুকিয়ে ছিলো যা হঠাৎই আমার নজরে আসে অন্য একটি লেখার অনুসন্ধান করতে গিয়ে। জাহাঙ্গীর ভাই কত বিষয় নিয়েই না লিখতে চেষ্টা করতেন  এই নিবন্ধটি তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। অদম্য প্রাণবন্ত একজন মানুষ যিনি লিখতে চাইতেন অনেককিছু। বেঁচে থাকলে হয়তো আরো বিচিত্র বিষয় নিয়ে লিখতেন।

 

খুব বেশি মৌলিক সাহিত্যচর্চা করেননি ননী ভৌমিক। তিনি তাঁর প্রায় সারাটা জীবনই পার করে দিলেন রুশ সাহিত্য অনুবাদ করে। অথচ তার লেখায় যে সৃষ্টিশীলতা, জীবনবোধ আর দায়িত্বশীলতা ছিল তা সত্যি অনন্যসাধারণ। এ কথাটাই হয়তা-বা এ সময়ের অনেকে জানেন না যে, ননী ভৌমিক কথাসাহিত্যের মৌলিকচর্চাও করেছেন। তিনি ধানকানা (১৯৭৪), আগন্তুক (১৯৫৪), পূর্বক্ষণ (১৯৫৭) ও চৈত্রদিন (১৯৫৮) নামের ৪টি গল্পগ্রন্থ আর মরু ও মঞ্জরী-ই (ভ্রমণ কাহিনী, প্রগতি প্রকাশন/মস্কো) শুধু লেখেননি ধুলোমাটি (১৯৫৭) নামের অতিপ্রয়োজনীয় একটা উপন্যাসও লিখেছেন।
উপন্যাসটির শুরুনগর পত্তনকে কেন্দ্র করে। রামচন্দ্র নামের উত্তরবঙ্গের বাঙালে-টানের লোকটি সাদামাটা শহরে যান নতুন নাগরিক মধ্যবিত্ত হিসেবে। অতিসস্তায় জমি কেনেন তিনি। খানিক ইট খানিক মাটি দিয়ে গাঁথা তার মিতব্যয়ী জীবনের গল্প অতঃপর এগোতে থাকে। ফিরিঙ্গি পুকুর ঘিরে যে শহরটা গড়ে ওঠে তারই ভেতর রামচন্দ্র চৌধুরী তার স্বপ্ন দেখা বাড়াতে আর শুদ্ধ করতে থাকেন।
এ উপন্যাসটিকে চারভাগে ভাগ করে লেখা হয়েছে, এগুলি হলো- ধুলা, ঝড়ের দিন, দিনরাত ঝড় এবং মাটি। প্রতিঅংশেই লেখক তার পরিকল্পনাকে শব্দজব্দ করেছেন বলা যায়।
এ উপন্যাসটিতে স্বদেশি আন্দোলনের প্রতি, কথিত সন্ত্রাসবাদের প্রতি পক্ষপাত স্পষ্ট। আরও খোলাসা করে বললে বিংশ শতাব্দীর দেশমুক্তির সেই সশস্ত্র সংগ্রামপ্রিয় আকাক্সক্ষাকেই তিনি কেন্দ্রীয় চরিত্র করেছেন। এ করাটা এমনই দৃঢ় যে, ননী ভৌমিক ভাবতেই চাননি অন্য মানুষের মুক্তির নানান ভাবনা বা ভিন্নসব রাজনৈতিক আকাক্সক্ষার প্রতি কেমন আচরণটা করা হলো। এমনকি তা করার শেষদিকে বোঝা যায় ভারতীয় রাজনীতিতে মুসলিম লীগ, কৃষক প্রজা পার্টি আর হিন্দু মহাসভা গড়ে উঠেছে। তার চেয়ে আশ্চর্যের বিষয় তিনি সেই সময়ের কমিউনিস্ট পার্টিকেও অনেকটা ভুলে বসে আছেন যেন। এটাকেই এ উপন্যাসের সীমাবদ্ধতা হিসাবে ধরা যেতে পারে। তিনি নগর কলকাতা বা তার আশপাশের নাগরিক সুস্থবোধসম্পন্ন মানুষকে, তাদের স্থানিক আকাক্সক্ষাকে তার লেখার মূল উপাদান হিসাবে জড়িয়ে ফেলেছেন।
ননী ভৌমিক বর্ণিত ১৭ বছরের সন্ত্রাসবাদী রাজনীতির বাইরের রাজনৈতিক অংশ কতটুকু এসেছে এখানে। সত্যি কথা বলতে তা তেমন আসেইনি। তিনি ১৯০৫ সাল থেকেই এ আন্দোলনের কালকে স্বর্ণময়কাল বলে চিহ্নিত করতে চেয়েছেন। কিন্তু তখন তো শুধু বঙ্গভঙ্গই হয়নি, ব্রিটিশরা ভিতরে-ভিতরে মুসলমান সমপ্রদায় দিয়ে আলাদা বসনা সৃষ্টির কাজটি অতি সূক্ষ্ণভাবেই করতে শুরু করেছে। উনবিংশ শতব্দিীর শেষদিকে শুধু শিক্ষিত হিন্দু মধ্যবিত্তই আলাদা স্বপ্ন দেখা শুরু করেননি, মুসলমান সমপ্রদায়, বিশেষত এর এলিট অংশটিও আলাদা করে তাদের ভাবনাকে জাগিয়ে তুলতে শুরু করেছিল। ১৯০৬ থেকেই তার সদ্য-গড়ে ওঠা মুসলিম লীগের ভাবনা দ্বারা অতিদ্রুত মিলিত হওয়া শুরু করে। ননী ভৌমিক তার উপন্যাস লেখার সময় এমন ভাবনায় কি তাড়িত হয়েছিলেন? মুসলমান স¤প্রদায়ের কতজন শিক্ষিত লোক এ সন্ত্রাসবাদে নিজেদের জড়িত করেছিলেন? তাদের ভাবনাটা তিনি কি আঁচ করতে চেষ্টা করেছিলেন। তা বোধ হয় করেননি। এ দেশের প্রগতিশীল আন্দোলনের বেশকিছু নেতৃত্বস্থানীয় স্বজ্জন বরাবরই ধরে নিয়েছেন, মানুষের যাবতীয় শুভ ভাবনার অধিকার শুধু তাদেরই আছে। এ অস্বাভাবিক প্রশ্নটিও খুব জরুরি বলে মনে হতে পারে কারো-কারো কাছে!
এটা স্বীকার করতে হবে যে, একেবারে শুরু থেকেই তার এ উপন্যাসে একধরনের আরোপিত ম্যাচুরিটি ভর করেছে। অতিযত্নে বাড়তে দেয়া চরিত্র শিবুকেও অবশেষে খুব বেশি বাড়তে দেননি তিনি। হয়তো বা একধরনের রাজনৈতিক স্থিরবিশ্বাস তাকে সেভারে ভাবতে সাহায্য করেনি। যার ফলে এর শেষ দিকটি একধরনের গণ্ডিবদ্ধ হয়ে পড়ে। এ চরিত্র শেষতক ননী ভৌমিকের মননের আর স্বনির্মিত ইন্সপিরিশনের প্রতীক হয়ে যায়। এখানে অনেক চরিত্র নিয়ে কিছু কথা বলাই যায়। প্রতীমা ননী ভৌমিকের আরেক রক্তমাংসের তৈরি সাঙ্কেতিক আকাঙ্খা যেন, যার প্রতি লেখকের মমতাও চোখে পড়ার মত। শিবুর প্রতি তার ভালোবাসা, এক অর্থে স্বাধীনতার প্রতিই প্রবল আকাক্সক্ষার প্রতিবিম্ব। তার ছোট দুটি বোনের বিয়ে হয়ে গেলেও প্রতিমার শিবুর প্রতি আকাক্সক্ষা শেষ হয় না। তাতেও দেশের প্রতি ভিন্নধরনের মমতার কথাটাই মনে পড়তে পারে।
সমাজের বিকাশ, তার যাবতীয় ধরন-ধারণ তিনি সবসময় তার নিজস্ব বোধের ভিতরে রেখেছেন। বিশেষ করে চরিত্রগুলোর আচরণ প্রায় সবসময় শ্রেণী অবস্থান থেকেই ঠিকঠাক করেছেন তিনি। তবে কখনো এ ব্যাপারে একবারও যান্ত্রিকতায় আক্রান্ত হননি তিনি। এও এ উপন্যাসের একটা প্রয়োজনীয় এবং অনুসরণীয় দিক বলা যেতে পারে। রামচন্দ্রের ফ্যামিলিকেই তিনি বেশি হাইলাইট করার চেষ্টা করেছেন। তিনি যেন তাকে ব্রিটিশ-ভারত মধ্যবিত্তের যাপিত জীবনের প্রতিনিধি করতে চেয়েছেন। রায়বাহাদুরের ফ্যামেলি ক্ষয়িঞ্চু সামন্ততন্ত্রের প্রতিনিধি হয়ে আছেন। বিনুর বেড়ে উঠা, বীরুর সঙ্গ-আচরণ- সীমিত বন্ধুত্ব, বাইড়িপাড়ার ছেলেদের সঙ্গে পুর্বনির্ধারিত নিষ্ঠুর ব্যবহার, এ সমাজের শ্রেণী বৈষম্যকেই পুষ্ট করে।
ননী ভৌমিকের হাহাকারের পুরাটাই দখল করেছে সন্ত্রাসবাদের পরাজয়। খুবই ছোট আয়তনের চরিত্র জ্যোতিও দারুণ হতাশা নিয়ে একসময় কলকাতার নাগরিক ধাঁচের জীবনকে চমকে দেয় যেন। বড় অদ্ভুত তার আচরণ। কী ক্ষেপা সে! রক্তমাংসের আন্দোলনমুখী অসাধারণ চরিত্র। সবকিছু তছনছ করে দেয়ার অদ্ভুত নেশায় চষে বেড়ায় সে। সন্ত্রাসবাদীদের সার্বিক আচরণ, পুলিশের কাছে ধরা পড়তে থাকা, আন্দোলনে বিশ্বাসভঙ্গ, এসব যেন ননী ভৌমিক সহ্য করতে পারেননি। এসবের ভেতর তার কোনো কোনো চরিত্র যেন নিজেকে সারেন্ডার করে বসে আছে। তবে এ উপন্যাসটি তার মতবাদের নির্দিষ্ট পরিণতি আরো বিস্তৃত করে এগিয়ে আনলে হয়তা ভালো হতো। শিবু তার পিস্তলটি যখন প্রতীমার হাতে দেয় তখন এক অর্থে উপন্যাস শেষ হতে পারত। অপরদিকে তখনকার কংগ্রেসঘেঁষা সত্যাগ্রহীরা থাকে প্রশ্নহীন। হিংসা নাকি অহিংসা- এসবের সঙ্গে আরও জটিল প্রশ্ন তখন জড়িত ছিল রাজনীতির প্রসঙ্গ। গান্ধি নাকি সুভাষ বসু? প্যাটেল নাকি আজাদ? নেহেরু নাকি সুভাষ বসু? মুসলিম লীগ নাকি কংগ্রেস? এসবের কোনো রাজনৈতিক বস্তুনিষ্ট ধরন এখানে দেখা যায় না। অথচ এসবই হয়ে যায় একসময়কার রজনীতির প্রধান অংশ।
উপন্যাস থ্রোতে প্রাপ্ত সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের বড়ো অমানবিক দিক হচ্ছে বিশ্বাসঘাতকতা। কথা তো কতই আছে- শুধু বিশ্বাসঘাতকতার শেষ হয়ে যাবে এমন আন্দোলন? তখন এর দীর্ঘস্থায়ী আর গভীর কোন্ ধরনের ভিত্তি ছিল স্বাধীনতা প্রিয় লোকজীবনে? মূল বিষয় হচ্ছে, এরা তো আসলে কংগ্রেসেরই একটা অস্ত্রপ্রিয় অংশ। এদের মুল নেতাদের তো নিয়ন্ত্রণ করছে টাটা-বিড়লা ধরনের মাড়োয়ারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তা হলে তারা কী করে একেবারে জনআন্দোলনের শক্তি হবে? তবে এটা ঠিক, তখনকার বাংলাদেশ এর রাজনৈতিক চৈতন্যেও একটা পজিটিভ দিক এ ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও ছিল। এখানে কংগ্রেসের রাজনীতির সীমাবদ্ধতা, এমনকি তদ্বারা সৃজনকৃত বুর্জোয়া-বিলাসকে তিনি সত্যবাবুর যুক্তিগ্রাহ্য চরিত্র দ্বারা খানিক রূপায়িত করতে পেরেছেন। এখানে হৃষ্টপুষ্ট চিৎকার-চেঁচামেচি যে নেই তা বলা যাবে না। তবে এখানকার বড় অংশের ভিতর দিয়ে দেশভাগজনিত আন্দোলনের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রকাশ পাওয়াই কারো কারো মনোজগতে একধরনের একঘেয়েমি আসতে পারে। অনেক স্বদেশী তখন ধরা পড়ে। তবে এদের বড় সমস্যা হচ্ছে, এদের আলাদা তো কোনো সংগঠন নেই। তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনাও নেই। তবু এ আকাঙ্খায় আপ্লুত চরিত্রগুলোর পরিণতি এর পাঠককে নিশ্চয় নতুন করে ভাবায়। পাঠক জানতে পারছে, শিবুও শেষতক আন্দোলনের অংশ হয়ে থাকতে পারলো না। রতন মরে গেল। একসময় পিয়নের চাকরি করা রতন প্রায় পাগলই হয়ে যায়। ওদের স্বপ্নটাকে আঁকেন ননী ভৌমিক- যেন এ চরিত্রসমূহের হৃৎপিণ্ডের ধ্বনি স্পষ্ট বোঝা যায়।
স্বপ্ন সুজিতেরও ছিল। এমনকি নিজের ওপর বিশ্বাস হারানোর পরও সে স্বপ্ন দেখতে চায়। উচ্চবিত্তের খামখেয়ালিপনায় ভরপুর সেও ভিন্ন ধরনের এক চরিত্র, যে আসলে নিজেকে নিজের মত করেই সাজিয়ে গুছিয়ে নিতে চায়। এখানেও ঔপন্যাসিক মধ্যবিত্ত আর উচ্চবিত্তের ভাবের জগতে গদগদ প্রেম আনেননি। যখন বীরুর পড়াশুনার জন্য জায়গীর ঠিক করে দেয়ার বিষয়টা ভুলে দিব্যি কুকুর নিয়ে খেলা করেন বিনুর বাবা, তখন বড় নোংরা মনে হয় তাকে। বীরুকে তাদের গাড়ি থেকে বিনুর সামনেই নামিয়ে দেন তিনি। রামচন্দ্র অভাবি মধ্যবিত্ত হলেও তার ভাবনার প্রথমদিকে সামন্তীয় আচরণই ছিল। পাঠক এও খেয়াল করবেন যে, একসময় জমিদারদের জীবনযাপনে ভিন্ন ঢেউ আসতে থাকে। রায়বাহাদুর পাগল হয়ে যান। শুধু জমিদারী দিয়ে চলবে না, তাও তখন বোঝা যায়। নতুন ধনশালী মানুষরা সমাজের নানানস্তরে উঠে আসে। লছমিদাশ আরো বড়োলোক হয়। একসময় চালাকি করে স্বদেশী আন্দোলনের প্রতি পক্ষপাতও দেখায় সে, বিদেশী কাপড়ে বান্ডিল পোড়ায়। অবশেষ রামচন্দ্রের বাড়িটা কিনে নেয়। এ যেন উঠতি বুর্জোয়ার নিঠুর পদধ্বনি। এতেই যেন তিনি কংগ্রেসীয় রাজনীতির ফাঁকিটা ধরিয়ে দিতে চাইলেন।
পুর্ণচন্দ্র বৃটিশ কেরানিযুগের আরেক প্রতিনিধি। ছেলে শিবুর প্রতি তার স্নেহ-মমতা এক মাইলফলক হয়ে আছে। অথচ এই শিবু তার প্রতি খারাপ আচরণই করল। একসময় ফিজিক্যালি এসল্টওতো করল তাকে। জগবন্ধুবাবু সেই কেরানিকুলের আরেক অসহায় প্রতিনিধি। বৃটিশরাজ যে এ ধরনের কেরানিকুল পয়দা করে বড়ই নির্বিঘ্ন ছিলেন, তা বোঝা যায় তার টেনশন আর আচরণ দেখে। চাকরির চিন্তায় এমনই মশগুল যে নিজের মেয়েটার প্রতি অতিদায়বদ্ধতার সাধারণ বোধও হারিয়ে ফেলেন তিনি। হেমবাবু বৃটিশ চাটুকারিতার আরেক সরস প্রতিনিধি। তিনি ধর্মের বিষয় আলাপ করেন, শান্তস্থির থাকেন, কিন্তু সবকিছুর মূল থাকে বৃটিশ তোষণার কলাকৌশল।
রামচন্দ্র তার স্বপ্ন দেখাটাকে একটা পর্যায় নিতে না পারলেও বংশস্রোতের ভাববাদী ধারণা বজায় রাখতে পারেন। তিনি ইংরেজি ভাষাচর্চার সঙ্গে সঙ্গে মদও খেতেন। একটা স্বপ্ন বয়ে বেরিয়েছেন! বীরুদার বাড়িটাও এ উপন্যাসের একটা চরিত্র। সমাজের বিকাশ যখন হয় তখন ভাঙচুর বদলে যাওয়া জীবন সবই বাড়িটাকে কেন্দ্র করে, তাই তিনি ধরতে চেয়েছেন। এর দেয়ালটা পুরান, মাটি কেমন মরা-মরা।
উপন্যাসটির প্রথম ভাগ অর্থাৎ ধুলাতে যেন প্রকাশ ঘটে ধুলায় সব কিছু। বীরু, রামচন্দ্রবাবু, শিবু, প্রতীমা, দিদি, বীরুর মা, অরুণদা সবাই চরিত্র হয়ে আলাদা স্বরে কথা বলতে থাকে। জমিদার ফ্যামিলি, কেরানিকুল, বাউড়িপাড়া, মুসলমানপাড়া সবই আসতে থাকে এখানে।
দ্বিতীয় পর্ব অর্থাৎ ঝড়ের দিন পর্বে সবই যেন লণ্ডভণ্ড হয় যায়। এর শুরুতেই দেখা যায় রায়বাহাদুর বাড়িতে স্বদেশী ডাকাতি হয়। হাঙ্গামা শুরু হয় সবখানে। শিবু অনেক বদেল যায়। নিজের বাবাকে পর্যন্ত মারতে আসে, পার্টির নীতিগত স্বার্থে প্রতীমার ভালোবাসার প্রতি উদাসীন থাকে সে।
তৃতীয় পর্বে লেখকের আশা-আকাঙ্খা একেবারে মিশে যাওয়ার অবস্থা হয় যেন। জেলেই যেন পচে মরবে সব স্বদেশী। কনফেসও হয়। সত্যাগ্রহীরা ছাড়া পায়, অথচ স্বদেশীরা জেলে ঢুকতে বাধ্য হয়। গান্ধী যেন নিজের অজান্তে বৃটিশরাজের সঙ্গে আঁতাত করে! সাধারণ কংগ্রেসীরা নিজে থেকে কোনো সিদ্ধান্তই নিতে পারে না।
একেবারে শেষপর্বে সবই যেন ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। শিবু ছাড়া পায় জেল থেকে, প্রতীমার ভালোবাসা যেন বোধের ভিতর আসে একসময়। তারপরই এতে আছে লালঝাণ্ডার উপর আক্রমণ। শিবু তো অ্যারেস্টও হয়। অনেক ব্যর্থতার কথাই যেন ননী ভৌমিক অনেক বড়ো করে দেখতে চেয়েছেন। জীবনকে ছেকে আনেন সমাজজীবনের একেবার গভীর থেকে। এমন চরিত্র এখানে নেই যাকে বেহুদা ফেলে রাখা হয়েছে। প্রত্যেকেই তার অবস্থানটা পরিস্কার করতে পারে। মানুষ যে রাজনৈতিক প্রাণীই শেষতক এবং শারীরিক ও মানসিক সামাজিকতা সে দাবি করে, তাও স্পষ্ট করতে থাকেন ঔপন্যাসিক।
সেই সময়ের সামাজিক-রাজনৈতিক অবস্থার ওপরে বেশ কিছু উপন্যাসের বিষয়-আশয় এখানে স্মরণ করা যেতে পারে, খোয়াবানামা, জাগরী, আবহমানকাল, সংশপ্তক এক্ষেত্রে এক-একজন সচেতন পাঠক স্মরণ করতেই পারেন। এদের সঙ্গে তুলনামূলক কোনো আলোচনার বিষয় নয় এটি। তবুও এগুলির সাথে তুল্যমূল্য ধরে ধুলোমাটিকে এ উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের যাবতীয় কথাসাহিত্যের নিরিখে বড় মাইলফলক বলা যেতেই পারে।
ধুলোমাটি উপন্যাস কলকাতার একটা এলাকার অনেকটাই মধ্যবিত্তের জীবনকে সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের একটা নির্দিষ্ট দৃষ্টিকোণ থেকে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। ঔপন্যাসিক স্বদেশী আন্দোলনের প্রতি এতই দায়বদ্ধ, যার ফলে তখনকার রাজনীতির সামগ্রিক বাস্তবতাকে কিছু হলেও অগ্রাহ্য করা হয়েছে। তৎকালীন পূর্ববঙ্গ আর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির জটিল ও কুটিল বিষয়-আশয় তেমন আলাদা করে তিনি ধরতে চাননি। বিশেষ করে সামপ্রদায়িক বিষয় বাষ্পের বিষয়টি তেমন কোনো গুরুত্ব পায়নি এখানে।
উপন্যাসের একেবারে শেষদিকে সা¤প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামা আনলেও তা জীবনের সমগ্রতায় পূর্ণাঙ্গ নয় মোটেই। তার কারণ হচ্ছে, ননী ভৌমিক যখন থেকে এ উপন্যাসের রাজনীতি বিকাশের ধারা নিয়ে বেশ উৎফুল­¬, অনেকটা তখন (১৯০৫ খ্রি.) থেকেই বুর্জোয়া প্রযোজিত হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায় তাদের সা¤প্রদায়িক ভাবনা দ্বারা পৃথকভাবে তাড়িত হওয়া শুরু করে। এটাও খুবই আশ্চর্যের যে, তিনি কৃষক প্রজাপার্টি আর মুসলিম লীগকে একবারে হিন্দু মহাসভার কাতারে বিবেচনা করেন! এটা ঠিক, মুসলিম লীগ একসময় চরম সামপ্রদায়িক হয়ে উঠলেও সেই দেশভাগের কালে, সেই কালের ভিতরও উদারনৈতিক কিছু উপাদান নিশ্চয় ছিল। তা না হলে পূর্ববঙ্গের সাধারণ মুসলমান কেন এদেরকে এভাবে সাপোর্ট করল? এ সমস্ত সংগঠনের নেতাসকল সাধারণ মুসলমান সমপ্রদায়ের সঙ্গে রাজনীতির মারপ্যাঁচ কর্তৃক নিশ্চয় একটা ইতিবাচক (!) সম্পর্ক গড়ে তুলতে পেরেছিল।
এখন এ প্রশ্নটিও আসতে পারে, তৎকালীন পূর্ববঙ্গ অর্থাৎ এখনকার বাংলাদেশের পাঠক হিসেবে এ উপন্যাসটিকে কিভাবে নেয়া যায়। এখানে এ কথাটি বলে নেয়া যায়, রাজনীতির কূটকৌশল আর ভিন্ন ইতিহাস, পরিবেশ, প্রতিবেশ ইত্যাদি নিশ্চয় কলকাতাকেন্দ্রিক আবেগ-অনুভুতির সমান্তরাল হবে না। ননী ভৌমিক এ উপমহাদেশে ধর্মকেন্দ্রিক রাজনীতি মেরুকরণের নোংরা আবাহন থেকে নিজেকে অনেকটা গুটিয়ে রেখেছেন। তাতে তিনি তার সৃজনকৃত শুভবোধ সম্পর্কে একধরনের তৃপ্তিতে থাকতে পারেন, কিন্তু ধর্ম-সামপ্রদায়িকতা দিয়ে যে সর্বনাশ ঘটে গেল এ উপমহাদেশে, তার কি কোনো হেরফের হলো? শুধু উপন্যাসটির শেষ দিকে দেখা যায় মুসলমান স¤প্রদায় প্রশ্ন তুলছে- হিন্দুরা তা সমসময় চাকুরী পাচ্ছে, শুধু ২/১ জন মুসলমান কেরানির চাকুরী পেলেই ওদের আপত্তি? এটাও আসলে রাজনীতির একটা বড় বাঁকবদলের ইঙ্গিত।
সবচেয়ে বড়ো কথা হচ্ছে, পূর্ববঙ্গের মানুষজন একদিকে তখন কলকাতাকেন্দ্রিক আভিজাত্যময় ধর্মীয় আধিপত্য থেকে আর অন্যদিকে ব্রিটিশদের শাসন-শোষণ থেকে যুগপৎ মুক্তি চেয়েছিল। এদিকটাতে ননী ভৌমিকের অবজার্ভেশন অনেকটাই যেন ঝাপসা মনে হয়। সুভাষ বসুপন্থী কংগ্রেসের স্বাধীনতাপিপাসু মানুষজনই ননী ভৌমিকের ভাবনা অনেকটাই আচ্ছন্ন করে করে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
এ উপন্যাসের আরও একটা আশ্চর্যের দিক হয়ে আছে, কমিউনিস্ট পার্টিকে এখানে অনেকটাই আড়ালে রাখার বিষয়টি কিন্তু লক্ষ করা যায়! অথচ এ উপন্যাসপাঠে মনে হবে, ৪০ এর দশকেই যেন কমিউনিষ্টদের অ্যাক্টিভিটিজ সমস্ত মানুষের চোখে পড়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে গ্রামে-গঞ্জে তখনকার খাজনা, প্রজাস্বত্ত¡, মহাজনি ঋণ আর ক্যানেল করের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে এরা, তা ঠিক। সেই আন্দোলন চলি­শের দশকেই ধীরে ধীরে হলেও, জমিদারী প্রথার শর্তহীন বিলোপসাধন আর তেভাগা আন্দোলনের দিকে তা কিন্তু মোড় নিচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, ননী ভৌমিক প্রগতিশীল আন্দোলনের মানুষ হয়েও তার এ উপন্যাসে সেইসবের ছিটেফাঁটাও আনতে চাইলেন না। এ কেমন মানসিক সীমাবদ্ধতা বোঝা মুশকিল! কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে পাঠকদের পরিচয় করাচ্ছেন তিরিশের দশকের একবারে শেষে!
কোনো একটা চরিত্রকে ননী ভৌমিক প্রধান্য দিতে চাননি। এটাও এ উপন্যাসের একটা পজেটিভ দিক। জীবনকে অনেক বড়ো আর গোছানো মনে করতেন বলেই এভাবে ননী ভৌমিক তার ভাবনাকে বিলিয়ে দিতে পেরেছেন। একটা দায়িত্ববোধ তিনি নিশ্চয়ই অনুভব করেন। এই ক্ষেত্রে আমরা ইয়াছিন চরিত্রটির কথা স্মরণ করতে পারি। সেই সময় দৃশ্যত সনাতন ধর্মের প্রায় কোনো লেখকের লেখায় মুসলমান চরিত্র তেমন দেখা যেত না। তবে এখানে ইয়াছিন এক ব্যতিক্রম, এক দরকারি চরিত্র। সে একটা সোসাইটিকে রিপ্রেজেন্ট না করলেও শিবুদের সহযাত্রী হতে পেরেছে। এখানেই ননী ভৌমিক তার মানবিক মূল্যবোধকে অনেক এগিয়ে রাখেন।
এভাবে নানাদিক থেকে বিচার-বিশ্লেষণ করে এক মর্যাদাশীল আর প্রয়োজনীয় উপন্যাস হিসেবেই একে গণ্য করতে হবে। এর ভাষাশৈলী, চরিত্রের বিকাশ, এক সংগ্রামমুখর সময়কে ধরার চেষ্টা, সামাজিক দায়সমূহে নতুন করে জায়গা করে নেয়ার আকাঙ্খা তিনি ভিন্নমাত্রায় ধরতে চেয়েছেন। আবারও বলতে হয়, উপন্যাসটির শেষের দিকে বীরু ও ইয়াছিনের কলকাতার দিকে অগ্রসর হওয়ার সিম্বল বেশ তাৎপর্যময়। এ যেন সামগ্রিকভাবে মানবিকতা সহযোগে আবারও খাড়া হওয়ারই পরিকল্পনা। পাঠককেও সেই জীবনের সঙ্গী করে নেয়ার একটা স্পষ্ট ইঙ্গিতই পাওয়া যায় এখানে। সবচেয়ে বড়ো কথা হচ্ছে, কিছুটা খণ্ডিত ভাবচৈতন্যের ভিতরও তিনি মানুষের অগ্রযাত্রার তৃষ্ণাকে লালন করতে পেরেছেন। এভাবেই ঔপন্যাসিক নিজস্ব ঘরানার ধ্যান-ধারণার আওতায় পাঠককে আরো আলোকময় বোধের সন্ধান দিতে সক্ষম হয়েছেন বলা যায়।

শেয়ার করুন: