004634
Total Users : 4634
Charbak magazine logo
sorolrekha logo

লেখক তালিকা

জন্ম. ২৩ নভেম্বর ১৯৭৫, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার পাত্রখোলা চা বাগানে। সম্পাদনা করছেন ‘চারবাক’ ও ‘সরলরেখা’। যুক্ত আছেন সাপ্তাহিক সাহিত্য আড্ডা ‘শুক্কুরবারের আড্ডা’র সাথে। লিটল ম্যাগাজিন সংগ্রহ ও প্রদর্শন কেন্দ্রের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রকাশিত গ্রন্থ: মায়াহরিণ, কাব্যগ্রন্থ ২০০৮, চারবাক, বুদ্ধিজীবীর দায়ভার, সম্পাদনা ২০০৯, সংবেদ, পক্ষ—প্রতিপক্ষ অথবা শত্রু—মিত্র, প্রবন্ধ ২০১০, চারবাক, নির্বাচিত চারবাক, সম্পাদনা ২০১১, চারবাক, নাচঘর, কবিতা, ২০১২, চারবাক, ভাষা সাম্প্রদায়িকতা অথবা সাম্রাজ্যবাদি খপ্পর, প্রবন্ধ, ২০১৩, চারবাক এবং মুখোশ, কবিতা, ২০১৬, চারবাক, করোনাকালে, কবিতা, ২০২২, চারবাক।
View Posts →
কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক
View Posts →
প্রাবন্ধিক ও চিন্তাবিদ
View Posts →
বাংলাদেশের উত্তরউপনিবেশি ভাবচর্চার পথিকৃৎ ফয়েজ আলম একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, অনুবাদক। উপনিবেশি শাসন-শোষণ আর তার পরিণাম, রাষ্ট্র ও সমধর্মী মেল কর্তৃক ব্যক্তির উপর শোষণ-নিপীড়ন ও ক্ষমতার নানামুখি প্রকাশ আর এসবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে টিকে থাকার কৌশল নিয়ে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে লিখছেন তিনি। বিশ্বায়নের নামে পশ্চিমের নয়াউপনিবেশি আর্থ-সাংস্কৃতিক আগ্রাসন আর রাষ্ট্র ও স্বার্থকেন্দ্রিক গোষ্ঠীর শোষণচক্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তার লেখা আমাদের উদ্দীপ্ত আর সাহসী করে তোলে। রুহানিয়াত সমৃদ্ধ দার্শনিক ভাবচর্চা আর সাহিত্যিক-রাজনৈতিক তত্ত্বচর্চাকে একসাথে কবিতার দেহে ধারণ করতে সক্ষম ফয়েজ আলমের সহজিয়া কবিতা। তার কবিতায় তিনি মানুষের প্রাত্যহিক মুখের ভাষার প্রতি উন্মুক্ত। যে ভাষাকে আমরা ব্রাত্য বানিয়ে রেখেছি একেই তিনি জায়গা করে দিয়েছেন কবিতায়। তাই প্রচলিত কাব্যভাষা থেকে তার কবিতার ভাষা ভিন্ন। বিভিন্ন প্রবন্ধে তিনি এ ভাষাকেই বলেছেন মান কথ্যবাংলা, আঞ্চলিকতার বাইরে সর্বাঞ্চলীয় বাঙালির প্রতিদিনের মুখের ভাষা। কবিতাগুলো কখনো কখনো বিভিন্ন ধ্বনি ও শব্দে বেশি বা কম জোর দিয়ে কথা বলার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করতে পারে, যেভাবে আমরা হয়তো আড্ডার সময় কথা বলি। এবং তা একই সাথে বক্তব্যের অতিরিক্ত ভাষারও অভিজ্ঞতা। খোদ ‘আওয়াজের সাথে ইশক’ যেন। প্রাণের আকুতি ও চঞ্চলতার সাথে তাই শূন্যতাও হাজির আছে। সেই সাথে জারি আছে ‘শব্দের দিলের ভিতরে আরো শব্দের আশা’। ফয়েজ আলমের জন্ম ১৯৬৮ সালে, নেত্রকোনা জেলার আটপাড়ার যোগীরনগুয়া গ্রামে। বাবা মরহুম শেখ আবদুস সামাদ, মা সামসুন্নাহার খানম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে বিএ (সম্মান) ও এমএ পাশ করার পর প্রাচীন বাঙালি সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ক গবেষণার জন্য এমফিল. ডিগ্রী লাভ করেন। গুরুত্বপূর্ণ কাজ: ব্যক্তির মৃত্যু ও খাপ-খাওয়া মানুষ (কবিতা, ১৯৯৯); প্রাচীন বাঙালি সমাজ ও সংস্কৃতি ( গবেষণা, ২০০৪); এডওয়ার্ড সাইদের অরিয়েন্টালিজম (অনুবাদ, ২০০৫); উত্তর-উপনিবেশি মন (প্রবন্ধ, ২০০৬); কাভারিং ইসলাম (অনুবাদ, ২০০৬), ভাষা, ক্ষমতা ও আমাদের লড়াই প্রসঙ্গে (প্রবন্ধ, ২০০৮); বুদ্ধিজীবী, তার দায় ও বাঙালির বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব (প্রবন্ধ, ২০১২), জলছাপে লেখা (কবিতা, ২০২১), রাইতের আগে একটা গান (কবিতা, ২০২২); ভাষার উপনিবেশ: বাংলা ভাষার রূপান্তরের ইতিহাস (প্রবন্ধ, ২০২২)।
View Posts →
কবি ও গল্পকার। যুক্ত আছেন চারবাক সম্পাদনা পরিবারের সাথে।
View Posts →
কবি। জন্ম মৌলভীবাজার জেলায়।
View Posts →
প্রাবন্ধিক। অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক। বর্তমানে প্রান্তীয় কৃষক-মধুচাষি, বেতবাঁশ শিল্পের সাথে জড়িত লোকজন নিয়ে কাজ করছেন।
View Posts →
জন্ম— জুন, ০৬, ১৯৭৭। জন্মস্থান— উত্তর গোবীন্দর খীল, হাঁদু চৌধুরী বাড়ী, পটিয়া, চট্টগ্রাম। (শৈশব কৈশোর ও তারুণ্যের সময়যাপন) বেড়ে ওঠা (পূর্ব্ব বালিয়াদী, মীরশ্বরাই, চট্টগ্রাম) নানার বাড়ীতে। প্রকাশিত কবিতার বই— ফুলেরা পোষাক পরে না (সাল: ২০১৮, প্রকাশক : মনফকিরা, কলিকেতা)। প্রকাশিতব্য বই— অর্দ্ধনারীশ্বরবাদ : প্রকৃতিপুরুষতত্ত্ব (নন্দনতত্ত্ব), বটতলার বয়ান (ভাষাতাত্ত্বিক গদ্য) ও উদ্ভিদপ্রতিভা (কবিতা)। সম্পাদক— চারবাক।
View Posts →

সম্পূর্ণ লেখক তালিকা

লিয়াকত ভাই ও তাঁর দর্শনের পাঠচক্র

২০০৩ সাল। অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি। লেখাপড়া বিশেষ করতে হয় না। মাঝে মাঝে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাঘুরি করি। একদিন গেছি পাবলিক লাইব্রেরিতে। পাবলিক লাইব্রেরিতে অনেক ভাল বই আছে। কিন্তু আমার যাওয়ার কারণ বই না। আসল কারণ অন্য। তবে সেটা এখানে বলছি না।

মূল প্রসঙ্গে আসা যাক। একদিন দেখি পাবলিক লাইব্রেরির নোটিস বোর্ডে সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রের একটা লিফলেট টানানো। লিফলেট বলাটা বোধহয় ঠিক হচ্ছে না। লিফলেট শব্দটার মধ্যে একটা সস্তাভাব আছে। দর্শন সস্তা ব্যাপার না।
লিফলেটে কী লেখা ছিল এখন আর ঠিক মনে পড়ছে না। কিন্তু এই লিফলেটই সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রের সঙ্গে আমার প্রথম যোগাযোগের মাধ্যম। লিয়াকত ভাইকে তখনও চিনি না। তখনও জানি না যে, এই মানুষটাই পরবর্তি সময়ে আমার চিন্তা জগতে এতখানি প্রভাব বিস্তার করবেন।

লিয়াকত ভাইয়ের দর্শন পাঠচক্রে আমার প্রথম অভিজ্ঞতাটা এই সুযোগে বলে নেয়া যেতে পারে। প্রথম প্রথম একধরনের সংকোচ থাকে। এই সংকোচ কাটানোর জন্য আমি সঙ্গে দেবব্রতকে নিয়ে আসার অপচেষ্টা চালালাম। দেবব্রত আমার সঙ্গেই পড়ে এবং মাঝে মাঝে আমার সঙ্গে উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরিতে অংশ নেয়। অপচেষ্টা বলছি, কারণ দেবব্রত তখন টিউশানি করে। টিউশানি বাদ দিয়ে দর্শন পাঠচক্রে অংশ নেয়াটা ছোটখাট পর্যায়ের অপরাধ। তবে ছোটখাট অপরাধ করা যায়, বড় অপরাধ করাটা ঠিক না ।

কিন্তু দেবব্রতকে সঙ্গে নেয়া গেল না। দর্শন পাঠচক্রে আমি একাই এসে হাজির হলাম।

সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্র পরিবাগে। এসি রুম। ঘরে কোনো চেয়ার টেবিল কিছু নাই, কার্পেট বিছানো। সবাই গম্ভির মুখে বসে আছে। লিয়াকত ভাই পড়াচ্ছেন ভিয়েনা সার্কেল। কিন্তু ভিয়েনা সার্কেল আমার মাথায় ঢুকছে না। আমি খুব আগ্রহ নিয়ে অন্যদের মুখের দিকে তাকাচ্ছি। আমার ধারণা হল অন্যরাও কেউ কিছু বুঝতে পারছে না। র‌্যাশনালিজম জাতিয় কী একটা নিয়ে আলোচনা চলছে। সিরিয়াস আলোচনার সময় মুখে গাম্ভির্য রাখতে হয়। আমিও মুখ গম্ভির করে বসে থাকলাম।

এর দু’দিন পর দেবব্রতর সঙ্গে দেখা।

দেবব্রত জিজ্ঞেস করল, কেমন হল পাঠচক্র?

আমি বললাম, ভাল না। একটা টাক মাথা, দাড়িওয়ালা লোক কী কী সব বলে, বাকিরা ঘাড় নাড়ে। কিছু বোঝা যায় না।
দেবব্রত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। সময় অত্যন্ত মূল্যবান-অপচয় করা ঠিক না।

লিয়াকত ভাইয়ের এই দুর্বোধ্য পাঠচক্রের সঙ্গে আমার স¤পর্ক এখানেই শেষ হয়ে যাবার কথা ছিল। কিন্তু তেমন ঘটল না। আমি কিছুদিন পর আবার গিয়ে হাজির হলাম। কেন গেলাম? এর কারণ আমার নিজের কাছেও স্পষ্ট না। এই ঘটনাকে লিয়াকত ভাইয়ের উপস্থাপনার দক্ষতা হিসেবে বর্ণনা করা যেতে পারে। আমি তা করতে চাচ্ছি না। মানুষের জীবনে নিয়তি বলতে একটা ব্যাপার আছে। নিয়তি যাকে যেখানে টেনে নেয়, তাকে সেখানে যেতে হয়।

এর বছরখানেক পরের কথা। দর্শন পাঠচক্র নতুনভাবে শুরু হয়েছে। এবার একদম প্রথম থেকে অংশ নেয়া শুরু করলাম। লিয়াকত ভাইয়ের কথা ততদিনে আমার কাছে সহজ হয়ে এসেছে। পড়ানো হচ্ছে থেলিস, গ্রিস, ইসলাম। সহজ কথা, সহজ বক্তব্য। না বোঝার কোনো কারণ নাই। আমি মোটামুটি দর্শন পাঠচক্রের নেশায় পড়ে গেলাম। নেশা কেন বলছি একটা উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা বোঝা যাবে।

পাঠচক্রের আসর বসে বৃহস্পতিবার। আমার যাওয়ার কথা ঢাকার বাইরে, বাগেরহাট। রাতের গাড়িতে। গেলে পাঠচক্রে অংশ নেয়া যাবে না। তাই যাত্রা একদিন পিছিয়ে দিলাম। পাঠচক্রে অংশ নিতে হবে। আমার এই নেশা টানা প্রায় তিন বছর ছিল।
একদিন প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে। অংশগ্রহণকারি এসেছে তিনজন। তিনজন নিয়ে পাঠচক্র হয় না।
পাঠচক্র তখন সমন্বয় করেন মুজিব ভাই।

আমি মুজিব ভাইকে বললাম, আজকে রেইনি ডে ঘোষণা কইর‌্যা দ্যান। দর্শন পাঠচক্রের জন্য দার্শনিক রেইনি ডে।
মুজিব ভাই রহস্যময় ভঙিতে হাসলেন।

এই হাসির রহস্যভেদ হল একটু পরে। লিয়াকত ভাই যথারীতি দর্শন পড়ানো শুরু করলেন। আমাদের দ্বিধা হয়তো তিনি বুঝতে পেরেছিলেন। বললেন, কোনো সিরিয়াস চর্চা কখনও খুব বেশি মানুষকে দিয়ে হয় না। এই কথাটা আমি লিয়াকত ভাইকে আরও বেশ কয়েকবার বলতে শুনেছি।

লিয়াকত ভাই পড়ান দর্শন। দর্শন উপভোগ্য বিষয় নয়। এ জাতিয় আসর বেশিদিন টেকে না। কিন্তু লিয়াকত ভাই এই আসর টিকিয়ে রেখেছেন। দর্শন পড়ানোয় তার উৎসাহ ক্লান্তিহীন। মানুষ হিসেবে আমি অলস ধরনের। লিয়াকত ভাইয়ের কর্মতৎপরতা আমার জন্য এক গভীর বিস্ময়। আমার বিস্ময়ের ঘোর এখনও কাটেনি। খুব সহসা কাটবে বলে মনে হচ্ছে না। কারণ লিয়াকত ভাইয়ের কর্মতৎপরতা এখনও থামেনি।

আজিজ মার্কেট বা টিএসসিতে পাঠচক্র খুব একটা দুর্লভ নয়। এর বেশ কয়েকটা রাজনৈতিক। কোনো কোনোটাতে আবার অংশ নিতে টাকা পয়সা লাগে। আগে টিকিট কেটে যাত্রা দেখতে হত। এখন টিকিট কেটে পাঠচক্রে অংশ নিতে হয়। লিয়াকত ভাইয়ের ব্যাপারটা সেরকম নয়। লিয়াকত ভাইয়ের পাঠচক্র হচ্ছে অবৈতনিক শিক্ষা।

আমাদের দেশে বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠতে পারে খুব কম মানুষ। এই দুর্লভ কাজটা লিয়াকত ভাই করে ফেলেছেন। কোনো রাজনৈতিক বিতর্কই তাকে স্পর্শ করেনি।

লিয়াকত ভাই যা পড়ান তার আলোচনা বা সমালোচনা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। ক্লাস সেভেনের ছাত্রের অনার্সের পাঠ্যসূচি নিয়ে আলোচনা করা এক ধরনের ধৃষ্টতা। আমি তা দেখাতে চাচ্ছি না। তবুও একটা বিষয় উলে­খ করা যেতে পারে। দর্শন পড়ানোর ফাঁকে ফাঁকে লিয়াকত ভাই সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তার সব বক্তব্যের সঙ্গে আমি একমত হতে পারিনি। সে বিষয়গুলো এখানে উলে­খ করলাম না। একমত না হওয়াটা নিশ্চয় দোষের না। লিয়াকত ভাই মুক্তচিন্তার কথা বলেন। মুক্তচিন্তায় বিরুদ্ধ মতের একটা জায়গা থাকে। লিয়াকত ভাইয়ের আলোচনার বিষয়গুলোর মধ্যে মুক্তচিন্তা আমার বিশেষ প্রিয়।

লিয়াকত ভাইয়ের প্রতি এই গভীর শ্রদ্ধাবোধ আমার একার নয়। আমার সমসাময়িক আরও অনেকেরই তা আছে। জীবন খুব সংক্ষিপ্ত একটা ব্যাপার। এত ছোট জীবনে শ্রদ্ধা সবার ভাগ্যে জোটে না। লিয়াকত ভাইয়ের এই সৌভাগ্য দেখলে আমার ঈর্ষা হয়।

লিয়াকত ভাইকে শ্রদ্ধা জানানোর বিশেষ সুযোগ হয়নি। এই লেখার মাধ্যমে একটা চেষ্টা করলাম। এই সম্মান লিয়াকত ভাইয়ের প্রাপ্য।

শেয়ার করুন: